যুক্তরাষ্ট্রে তেল উৎপাদন বাড়াতে স্নায়ুযুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের (ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট) বিশেষ ধারা প্রয়োগ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তেল উৎপাদন, পরিশোধন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য অপরিহার্য ঘোষণা করেন তিনি।
এর ফলে তেল উৎপাদনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা দেশটির অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বৃহস্পতিবার এক প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে ট্রাম্প স্নায়ু যুদ্ধের সময় প্রণীত ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্টের ৩০৩ নম্বর ধারা প্রয়োগের কথা জানান। এর আওতায় তেল উৎপাদন, পাইপলাইন, তেল সংরক্ষণাগার ও সামুদ্রিক টার্মিনাল নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট কাজে সরকার আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে ট্রাম্প বলেন, ‘২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আমি জাতীয় জরুরি অবস্থা আইনের আওতায় নির্বাহী আদেশ ১৪১৫৬ জারি করেছিলাম। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি উৎপাদন, পরিবহন, পরিশোধন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপর্যাপ্ত সক্ষমতাকে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য অস্বাভাবিক ও গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদেশটিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছিল, আমাদের দেশের বর্তমান অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত জ্বালানি সরবরাহের কারণে আমরা শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি শক্তির কাছে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছি। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক এবং ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘এই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমি মনে করি, দেশের অভ্যন্তরে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল তেল উৎপাদন, পরিশোধন এবং পরিবহনব্যবস্থার সক্ষমতা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘তেল দেশের সশস্ত্র বাহিনী, শিল্পভিত্তি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সচল রাখে। কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিঘ্নের ঝুঁকিতে থেকে যাবে।’
এই সিদ্ধান্তের আওতায় তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদন, তেল সংগ্রহ ও পরিবহনের পাইপলাইন, তেল সংরক্ষণাগার এবং সামুদ্রিক টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

