spot_img

ফোনে সহজেই যেভাবে চালু করবেন স্টারলিংকের মোবাইল সেবা

অবশ্যই পরুন

মোবাইল ফোনের প্রচলিত নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকলেও এখন যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা চালু করেছে অপারেটরটি। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, উপকূল, সমুদ্র কিংবা নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায়ও সীমিত পরিসরে মোবাইল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা বা বিশেষ কোনো যন্ত্র কেনার প্রয়োজন হবে না। উপযুক্ত ৪জি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই সেবাটি ব্যবহারের সুযোগ মিলতে পারে।

আলাদা কোনো অ্যাপস লাগবে?

না। এ জন্য আলাদা কোনো অ্যাপস লাগবে না। স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার জন্য আলাদা কোনো ধরনের অ্যাপস ইনস্টল করার জটিলতা নেই। বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সেবা বা নির্দেশনা পাওয়া যায় কি-না, সেটি দেখে নিতে পারেন। ফোনের সফটওয়ার ও নেটওয়ার্ক সেটিংসও আপডেট রাখতে হবে। পাশাপাশি ফোনে ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধাসমূহ আছে কি-না, তা দেখে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।

ফোন কখন স্যাটেলাইটে যাবে?

ব্যবহারকারী যখন প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজ আওতার বাইরে চলে যাবে, তখন উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে কানেক্ট হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে এই সময় খোলা আকাশের নিচে থাকা বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করে। কারণ, ভবন, পাহাড় বা কোনো বড় বাধা স্যাটেলাইটের সঙ্গে কানেক্ট হতে প্রভাব ফেলতে পারে।

মনে রাখতে হবে, নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলেই অটোমেটিক্যালি প্রতিবার সেবা মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, স্যাটেলাইট কাভারেজ, অবস্থান এবং অপারেটরের শর্তের ওপর নির্ভর করবে বিষয়টি।

খরচ:

ব্যবহারকারী সেবাটি চালু করার পর প্রথম মাসে যেকোনো ইন্টারনেট বা ব্যান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা বিনামূল্যে পাবে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক। তবে পরবর্তী থেকে বা দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও ব্যান্ডেল প্যাকের সঙ্গে বাড়তি খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে প্রতি মাসে ফ্রিতে পাঁচটি করে এসএমএস দেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

কাজের ধরন:

এ সেবার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হিসেবে সীমিত আকারে যোগাযোগ সুবিধা। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, সমুদ্র, উপকূল এবং দুর্যোগের সময় সেবাটি গ্রাহকদের প্রয়োজনে আসতে পারে। আর স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অ্যাপ, মেসেজিং ও লোকেশনভিত্তিক কিছু সেবাও ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে প্রচলিত ৪জি বা ৫জি মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সেবা উপভোগের আশা করা উচিত হবে না।

স্যাটেলাইট ডিশের প্রয়োজন হবে:

সেবাটি প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মতো কোনো সেবা নয়। সাধারণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট জায়গায় ডিশ বা অ্যান্টেনা স্থাপন করে তারপর ইন্টারনেট সংযোগ নিতে হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে উপযুক্ত মোবাইল ফোনই স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে। এ কারণে বাসা-বাড়ি বা অফিসে আলাদা করে কোনো ডিশ বসানোর দরকার হয় না।

অন্যসব অপারেটরের গ্রাহকরা কি সেই সেবা পাবেন:

বর্তমানে বাংলাদেশে সেবাটি শুধু বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। অন্যসব অপারেটরের ব্যবহারকারীরা সেবাটি পাবেন কি-না, তা নিশ্চিত নয়। এ কারণে হাতে ৪জি ফোন থাকলেই স্টারলিংকভিত্তিক উল্লেখিত সেবাটি পাওয়া যাবে, তা নয়।

সংযোগ না এলে করণীয় কী?

ফোনে ৪জি থাকার পরও স্যাটেলাইট সংযোগ না এলে শুরুতে ফোনের সফটওয়ার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তারপর মাইবিএল অ্যাপে সেবাটি নিজ নম্বরে সক্রিয় কি-না, সেটি দেখে নিতে পারেন। যদি এসব ঠিক থাকার পরও সংযোগ পাওয়া না যায়, তাহলে অপারেটরের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিত।

সর্বশেষ সংবাদ

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সব হারাবে সৌদি আরব, সতর্কবার্তা ইরানি বিশ্লেষকের

যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের অর্থনীতি গুরুতর সংকটে পড়তে পারে এবং দেশটির তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ