দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান নতুন বোলার খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘রবি বোলার হান্ট’-এর ট্রায়াল কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে সিলেট ও বরিশাল বিভাগের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে তরুণ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ ও পারফরম্যান্সে মিলেছে উল্লেখযোগ্য সাড়া।
বরিশাল বিভাগের ট্রায়াল থেকে মোট ৬ জন বোলার নির্বাচিত হয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের পারফরম্যান্স, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এবং নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার আগ্রহ বরিশাল বিভাগের ট্রায়ালকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
অন্যদিকে, সিলেট বিভাগের ট্রায়াল থেকে মোট ১৫ জন বোলার নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারী ক্রিকেটারও রয়েছেন। সিলেট পর্বে অংশ নেওয়া পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ বোলিং গতি রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৩২ কিলোমিটার। একই সঙ্গে একজন নারী ক্রিকেটারের নির্বাচিত হওয়া এবারের রবি বোলার হান্টের অন্তর্ভুক্তিমূলক দিকটিকেও আরও দৃশ্যমান করেছে।
সিলেট ও বরিশাল বিভাগের সফল আয়োজনের পর আগামী ১ অক্টোবর শুরু হচ্ছে খুলনা বিভাগের ট্রায়াল। রবির “পারবে তুমিও” মূলমন্ত্রে দেশব্যাপী এই প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছেন ২০ হাজারেরও বেশি ক্রিকেটার।
এবারের আয়োজনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারী ও পুরুষ—উভয় ক্রিকেটারের অংশগ্রহণের সুযোগ। দুই বিভাগ থেকেই ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ এবারের উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং দেশের ক্রিকেটে প্রতিভা অনুসন্ধানের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।
নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে রংপুর ও সিলেট বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত সিলেট ও বরিশাল বিভাগের ট্রায়ালে স্থানীয় তরুণ ক্রিকেটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এবার খুলনা বিভাগের ট্রায়াল ঘিরেও স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সিলেট দিয়ে শুরু হওয়া এই ট্রায়াল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সাতটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরো ট্রায়াল পর্বে মোট ৮টি মাঠ ব্যবহার করা হবে, কারণ খুলনার একই ভেন্যু বরিশাল ও খুলনা—দুই বিভাগের ট্রায়ালের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে দুটি পৃথক ট্রায়াল, যার ভেন্যু মিরপুর ও পূর্বাচল।
রবির ক্রিকেট প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগ নতুন নয়। এর আগে ২০১৬ সালের ‘রবি ফাস্ট বোলার হান্ট’ থেকে উঠে এসেছিলেন ইবাদত হোসেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। একইভাবে ২০১৭ সালের ‘রবি স্পিনার হান্ট’ থেকে উঠে আসেন রিশাদ হোসেন, যিনি পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেন।
আগের আয়োজনগুলোতে আলাদাভাবে পেসার ও স্পিনার খোঁজা হলেও এবারের উদ্যোগে দুই ধরনের বোলারকেই একই প্ল্যাটফর্মে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই এবারের আয়োজনের নাম রাখা হয়েছে ‘রবি বোলার হান্ট’। এখানে পেসার ও স্পিনার—উভয় ধরনের বোলারই অংশ নিতে পারছেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সিলেট ও বরিশাল বিভাগের ট্রায়ালে পাওয়া সাড়া ও নির্বাচিত প্রতিভাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় খুলনা পর্ব থেকেও নতুন সম্ভাবনাময় বোলার উঠে আসবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

