প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের নেতা শি জিনপিংকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি আমেরিকার অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না—এমনটাই জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।
রোববার ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, ‘আমরা সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি।’ এক পর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শিকে সরাসরি জিজ্ঞাসাও করেছিলেন, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে চান কি না।’
ট্রাম্প সত্যিই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেছিলেন, নাকি চীনা নেতার সঙ্গে রসিকতা বা খোঁচা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন—তা পরিষ্কার করতে দ্য পোস্ট হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এই তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ধারণা করা হচ্ছে যে হংকংয়ে পাঠানো কিছু সংবেদনশীল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ চীন সংগ্রহ করেছে। তবে কী কারণে সেগুলো চীনের হাতে গেছে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
শি জিন পিংয়ের তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ট্রাম্প ও শি তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়েও আলোচনা করেন। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।
ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য আলোচনা এবং ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রেখেছিল।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পারডিউ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ১১ বিলিয়ন ডলারের অনুমোদন দিয়েছেন। অন্যান্য অস্ত্র বিক্রি নিয়েও আলোচনা চলছে। তিনি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি যখনই একসঙ্গে বসেন, তখন তারা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।’
তাইওয়ান প্রসঙ্গে মার্কিন নীতির বিষয়ে পারডিউ আরও বলেন, ‘আমাদের সমর্থনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা স্বাধীনতাকে সমর্থন করি না এবং জবরদস্তিকেও সমর্থন করি না।’
বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, যেসব দেশ চীনের সঙ্গে ব্যবসা করে, তাদের ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলতে হবে—অর্থাৎ তাইওয়ান ও চীনের মূল ভূখণ্ড একই দেশ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। এর অর্থ হলো, চীন যদি শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে কি না—সে বিষয়ে ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
ট্রাম্প ও শির বৈঠকে তাইওয়ান সাধারণত অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় থাকে। শি জিনপিং তাইওয়ানকে শক্তি প্রয়োগ করে দখলের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চিরকাল চলতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত ‘পুনরেকত্রীকরণ’ ঘটতে হবে।
তাইওয়ানের নিজস্ব সরকার, মুদ্রা ও সামরিক বাহিনী রয়েছে এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অধীনে শাসিত হওয়ার চাপ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের প্রতি চীনের সমর্থনের বিষয়টিও শির সামনে তোলেন। পারডিউয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, শি আশ্বাস দিয়েছেন যে বেইজিং তার নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনছে।
পারডিউ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং খতিয়ে দেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এতে কিছুটা উন্নতি দেখতে পাচ্ছি। তবে এটি একটি চলমান প্রচেষ্টা এবং আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তারা এই বিষয়ে বাইরে থাকে।’
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

