spot_img

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

অবশ্যই পরুন

ইরানে দুটি সামরিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার মতো যৌক্তিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত দল। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বলেও জানিয়েছে তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান মিশন এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা এবং গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভে ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া, এই দুই বিষয়ই তদন্ত করেছে মিশন। এ বিষয়ে জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশন তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, তাঁদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধের নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। তাদের মধ্যে ১২০ জন ছিল স্কুল শিক্ষার্থী। জাতিসংঘ মিশনের ভাষ্য, হামলাটি ছিল নির্বিচার আক্রমণ, যাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ওই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে হামলা চালানোর আগে তথ্যটি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

তদন্তকারীরা বলেন, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের তথ্য হালনাগাদ না করা এবং স্থাপনাটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না তা নিশ্চিত না করা শুধু অবহেলার পর্যায়ে পড়ে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার বড় ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে তারা অবগত ছিল।’

গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা করেনি। তিনি এ বিষয়ে তদন্তের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে প্রাণঘাতী হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছিল। তবে পেন্টাগন পরে তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাথমিক ফল প্রকাশ করেনি।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, স্কুলটি স্পষ্টভাবে বেসামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এমন কোনো প্রমাণ তাঁরা পাননি।

সূত্র : রয়টার্স

সর্বশেষ সংবাদ

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা সঠিক ছিল না, মেনে নিয়েছে দলটি: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করে বলেছেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না,...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ