দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। হামলায় শিশুসহ চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন দাবি করে ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও উপ-প্রতিনিধি গোলাম হোসেইন দারজি বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব অভিযোগ করেন।
চিঠিতে দারজি বলেন, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি শহরে নতুন করে আগ্রাসন ও সামরিক হামলা শুরু করে। এ সময় হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কোহেস্তাক এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় ওই ভবনে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের দাবি, হামলায় শিশুসহ চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
দারজি বলেন, বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের হত্যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের—বিশেষ করে শিশুদের—ইচ্ছাকৃত বা নির্বিচারে হত্যা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এসব ঘটনাকে শুধু ‘পার্শ্বক্ষতিজনিত ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করে দায় এড়ানোও সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।
দারজির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। এই দায়িত্বের গুরুতর ও ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য রাষ্ট্র বা পক্ষগুলোকেও সতর্ক করেছেন দারজি। তাঁর অভিযোগ, যারা কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত লঙ্ঘন বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহায়তা, সমর্থন কিংবা অংশগ্রহণ করছে, তারাও এসব কর্মকাণ্ডের পরিণতির জন্য দায়ী থাকবে।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ইরানের জনগণের ওপর সংঘটিত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির দায়ও অন্তর্ভুক্ত।
তবে হামলা ও হতাহতের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে করা এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

