spot_img

প্রতি ৩ জনে ১ জন মার্কিন সেনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করছেন

অবশ্যই পরুন

পেন্টাগনের শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কর্তৃপক্ষকে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন নিপীড়ন বা নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ করার হার মার্কিন সেনা সদস্যদের মধ্যে বেড়েছে। যদিও আক্রান্তের পর রিপোর্ট করতে এগিয়ে আসা সেনা সদস্যের সংখ্যা বেড়েছে, তবে গত এক বছরে এই ধরনের ঘটনার সার্বিক পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ অর্থবছরে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া সক্রিয় সেনাসদস্যদের আনুমানিক ৩৩ শতাংশ পেন্টাগন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। যেখানে ২০২৩ অর্থবছরে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ। দ্বিবার্ষিক গোপনীয় জরিপ এবং কর্তৃপক্ষের কাছে করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘সহজ কথায়, যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া প্রতি ৩ জন সেনাসদস্যের মধ্যে প্রায় ১ জন বিষয়টি সেনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ২০২৩ অর্থবছরে যেখানে প্রতি ৪ জনে মাত্র ১ জন রিপোর্ট করতেন, সেই তুলনায় এটি একটি বড় বৃদ্ধি।’ অনেকের মতে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা এখনও বেশ উদ্বেগজনক।

সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে বা তাদের দ্বারা ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ওপর ভিত্তি করে পেন্টাগন প্রতি বছর এই রিপোর্ট প্রকাশ করে। যেহেতু এটি এমন একটি অপরাধ যা খুব কমই সামনে আসে, তাই বাস্তব চিত্র বুঝতে প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রতি দুই বছর পর পর একটি গোপনীয় অনলাইন জরিপ পরিচালনা করে থাকে।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে, অভিযোগ বা রিপোর্ট বাড়া একটি ইতিবাচক বিষয়। কারণ সাধারণ সমাজ কিংবা সামরিক বাহিনী—সবখানেই ভুক্তভোগীরা সহজে মুখ খুলতে চান না। কর্মকর্তাদের মতে, রিপোর্ট বৃদ্ধির অর্থ হলো সেনা সদস্যরা অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থার ওপর আগের চেয়ে বেশি আস্থা পাচ্ছেন এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন।

গত বছরের তুলনায় চলতি বছর যৌন নির্যাতনের মোট রিপোর্টের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা মোট ৭,৯৯৮টি যৌন নিপীড়নের রিপোর্ট পেয়েছে, যা ২০২৪ সালের ৮,১৯৫টি রিপোর্টের চেয়ে ১৯৭টি কম।

সর্বশেষ গোপনীয় জরিপ অনুযায়ী, সক্রিয় দায়িত্ব পালনকারী নারীদের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার হার ২০২৩ সালের ৬.৮ শতাংশ থেকে কমে গত বছর ৪.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ১.৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার আনুমানিক হার ২৪.৭ শতাংশ থেকে কমে ১৭.৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫.৮ শতাংশ থেকে কমে ৪.৪ শতাংশ হয়েছে।

পেন্টাগনের এই রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের সংস্কৃতি এবং তা লুকিয়ে রাখার প্রবণতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তবে নতুন এই পরিসংখ্যানের সময়কালটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মেয়াদের মাত্র প্রথম কয়েক মাসের চিত্র তুলে ধরে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মন্ত্রী পিট হেগসেথ শীর্ষস্থানীয় নারী কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা কিংবা নীতিগত পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো দ্বিধা দেখাননি—যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি সামরিক বাহিনীতে নারীদের ভূমিকা সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে থাকতে পারেন।

সূত্র: ইউএসনিউজ

সর্বশেষ সংবাদ

ইউক্রেনকে পুতিনের হুঁশিয়ারি, সামনে ভয়াবহ পরিণতি

ইউক্রেনকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মস্কোর অর্থনৈতিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে কিয়েভ এক...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ