ইরানের বিরুদ্ধে ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ’ প্রয়োগ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের সমাধান হবে না বলে জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করেছে বেইজিং।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ অবস্থানের কথা জানান। এর আগে, ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় চীনসহ বিভিন্ন দেশকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ ধরনের চাপের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ‘ধসিয়ে দেওয়া’ সম্ভব। তবে তেহরান এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ কৌশল ব্যর্থ হবে।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের হুমকি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে না।’
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
এদিকে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান সমর্থন করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। চীনকেও এই প্রচেষ্টায় যুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দেবে কি না, সিএনবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রকাশ্যে নয়, বরং ব্যক্তিগত পর্যায়ে করাই ভালো। তবে একই সঙ্গে বেইজিংকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেসেন্টের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনা মুখপাত্র লিন আবারও যুদ্ধের সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ‘দায়িত্বশীল পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানান।
চীনের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি নেই এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেই—এমন অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বেইজিং।
চীনের এই অবস্থান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের উদ্যোগে বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

