যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার প্রাক্কালে সমুদ্রের দিকে ১০টির বেশি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার রাজধানী পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পূর্বদিকে সাগরের দিকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এক বিবৃতিতে সিউল জানায়, উত্তর কোরিয়ার এই কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন। পিয়ংইয়ংকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক আইনপ্রণেতাদের জানান, উৎক্ষেপণ করা অস্ত্রগুলো ৬০০ মিলিমিটার মাল্টিপল রকেট লঞ্চার বা কেএন-২৫ হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সিউল সেগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া দাবি করে আসছে, ৬০০ মিলিমিটার এই অস্ত্র ব্যবস্থা কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। আন্তর্জাতিকভাবে এটি কেএন-২৫ নামে পরিচিত।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে আনুমানিক ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই মহড়া সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন অংশগ্রহণ কমানোর সিদ্ধান্তের পর কিম জং উনের কাছ থেকে একটি জবাবও পেয়েছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর কোরিয়াবিষয়ক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

