যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়লে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের -এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান আরও জোরদার করলে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে তেহরান।
প্রতিবেদনটি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে বুলগেরিয়ার একটি বিমানঘাঁটি এবং সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন সম্পদেও আঘাত হানতে হতে পারে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডও সতর্ক করেছে, ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত কোনো বিদেশি ঘাঁটিকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সম্ভাব্য হামলায় মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে সমুদ্রের নিচে থাকা ফাইবার-অপটিক কেবলের বিরুদ্ধে নাশকতার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান সম্প্রতি কূটনৈতিক সমাধান না হলে আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থান নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে ইউরোপে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগিয়েছে বা তেহরান আদৌ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের-এর প্রতিবেদনটি মূলত ইরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ইউরোপের মার্কিন সামরিক স্থাপনা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ন্যাটো, ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

