spot_img

এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত

অবশ্যই পরুন

থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ওই ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ড (পিআইসি) দ্বিতীয় দফার নিশ্চিতকরণ ডোপ টেস্টেও ব্যর্থ হয়েছেন। পরীক্ষায় তার শরীরে মারিজুয়ানা বা গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

শুধু ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়াই নয়, ফ্লাইটে পাইলটের আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেছেন কেবিন ক্রুরা। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটের কেবিন ক্রুরা ওই পাইলটের বিরুদ্ধে বিমানের ভেতরে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ তুলে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি এখন শুধু ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএর বিধিমালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পাইলটের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

ভারতের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পাইলটের ডোপ টেস্টে পজিটিভ রেজাল্ট এলে তাকে মাদকমুক্তির চিকিৎসা বা ডি-অ্যাডিকশন কর্মসূচিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তিনি মাদকমুক্ত, এমন সনদ পাওয়ার পরই আবার উড়োজাহাজ চালানোর অনুমতি পেতে পারেন।

ঘটনার সময় বিমানের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয় তরুণ কো-পাইলটকে। পাইলট-ইন-কমান্ড স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম না থাকায় কো-পাইলটকেই একাই উড়োজাহাজটি স্থিতিশীল করতে হয়। এরপর বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণও করান তিনি।

ফ্লাইটটি মাঝআকাশে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানোর সময় পাইলট-ইন-কমান্ড কো-পাইলটের আসনের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। ওই সময় এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজটি সাময়িকভাবে ‘নেগেটিভ জি’ পরিস্থিতিতে চলে যায়। এতে ককপিটে পাইলট ও বিভিন্ন সরঞ্জাম কিছুটা ওপরে ভেসে ওঠে। একইসঙ্গে সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীদের কয়েকজন আহত হন।

ঘটনার পর উড়োজাহাজটির ২০ যাত্রী ও চার কেবিন ক্রু আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাইলট-ইন-কমান্ড ওই সময় সাইকোঅ্যাকটিভ বা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব সৃষ্টিকারী কোনো পদার্থের প্রভাবে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইলটকে একাধিকবার ফ্লাইট ডেকের মেঝেতে বসে থাকতে দেখা যায়। এমনকি তিনি ধূমপানের চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে কেবিন ক্রুদের সহায়তায় তাকে আসনে ফিরিয়ে নিতে হয়।

ওই সূত্র আরও দাবি করেছে, পাইলট নিজের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলেন না। এমনকি বিমান থেকে নামার পরও ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না তিনি।

তবে কেবিন ক্রুদের এসব অভিযোগের বিষয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার তদন্ত করছে ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কারিগরি, পরিচালনাগত, চিকিৎসাসংক্রান্ত এবং মানবিক বিষয়সহ সব প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ডোপ টেস্টের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্তের সময় সংগ্রহ করা বিভিন্ন নথি, বক্তব্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য উপাদান সংশ্লিষ্ট তদন্ত কাঠামো অনুযায়ী গোপনীয় ও সুরক্ষিত।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এএআইবি পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করবে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর পাইলটদের মাদক পরীক্ষার বর্তমান নিয়ম আরও কঠোর করার বিষয়ে ভাবছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।

ভারতে ‘সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্স গ্রহণের জন্য এভিয়েশন কর্মীদের পরীক্ষার পদ্ধতি’ শীর্ষক যে নীতিমালা রয়েছে, সেটি পর্যালোচনা করছে সংস্থাটি।

তবে দেশটির শীর্ষস্থানীয় পাইলটদের একটি অংশ মনে করছে, ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়া সব ঘটনাকে একইভাবে দেখা উচিত নয়। ঘুম বা উদ্বেগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণের কারণে পরীক্ষায় কোনো পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলে সেটিকে প্রকৃত মাদক বা সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ সেবনের ঘটনা থেকে আলাদা করে দেখার দাবি উঠেছে।

কারণ, কিছু ওষুধ সেবনের পর ঘুম ঘুম ভাব বা মনোযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে উড্ডয়নের কয়েক ঘণ্টা আগে কোন কোন ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে, এয়ারলাইনগুলোর পক্ষ থেকে পাইলটদের সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তালিকাও দেওয়া থাকে।

এই ঘটনার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট পাইলটের ওপরই সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘদিনের নানা সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা এয়ার ইন্ডিয়ার জন্যও এটি নতুন করে বড় চাপ তৈরি করেছে।

ঘটনার পর ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এয়ার ইন্ডিয়ার বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাম্পবেল উইলসনকে তলব করে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ঘটনাটি মোকাবিলায় এয়ারলাইনটি কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চান।

একইসঙ্গে, দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে এয়ার ইন্ডিয়ার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালনা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থাও আবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে, আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর জনআস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছিল প্রতিষ্ঠানটি।

টাটা গ্রুপ ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের অংশীদারত্বে এয়ার ইন্ডিয়ায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ এবং নানা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হলেও, প্রয়োজনীয় পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংস্কৃতি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। নতুন এই ঘটনা সেই প্রশ্নগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ প্রত্যাহার, মিলবে প্রণোদনা

নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক সকল লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে এই...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ