সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ জন বাসিন্দা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনা ঘটে। রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গতকাল গভীর রাতে (রাত দেড়টা) জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানার ভেতর থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন সৌদির ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আগুন তীব্র হওয়ায় মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, যার ফলে প্রাথমিকভাবে নিহতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলারই বাসিন্দা ১০ জন। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা সাতজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম, পরে তা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।”
আত্রাই উপজেলায় নিহতরা হলেন- বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও মজিদুল (৩৪), উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭), গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০) ও কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)।
অন্যদিকে, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে তাঁর এলাকার ৩ জন বাসিন্দা রয়েছেন। তাঁরা হলেন- খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার রবিউল আওয়াল হৃদয়।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করতে দূতাবাসের একটি দল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। চূড়ান্ত তথ্য পাওয়ামাত্রই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর শোক
সৌদি আরবে সোফা কারখানায় এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অকাল ও বেদনাদায়ক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এক শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, “দেশের অর্থনীতিতে এই প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।” তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মন্ত্রী আরও জানান, রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সৌদির দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও আইনগত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

