কাজাখস্তানের ভূগর্ভস্থ প্রাচীন পাঁচটি মসজিদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মসজিদগুলো দেশটির পশ্চিমে অবস্থিত মাংগিস্তাউ অঞ্চলে অবস্থিত। ঐতিহাসিক এসব মসজিদ পাথরের পাহাড় খোদাই করে তার ভেতর নির্মাণ করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনে গত ২৫ জুলাই এ সিদ্ধান্ত হয়। কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট অফিসের জ্যেষ্ঠ উপপ্রধান এরলান কারিন টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান।
তালিকাভুক্ত মসজিদগুলো হচ্ছে বেকেত আতা মসজিদ, শোপান আতা মসজিদ, কারামান আতা মসজিদ, শাকপাক আতা মসজিদ ও সুলতান উপি মসজিদ। এই মসজিদগুলো কাজাখস্তানের আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
এরলান কারিন জানান, প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভের উদ্যোগে মসজিদগুলোকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। ২০২৪ সালে আতিরাউয়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় কুরুলতাই সভায় প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ মাঙ্গিস্তাউ অঞ্চলের শিলাখোদিত মসজিদগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন।
বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কারিন বলেন, এসব শিলাখোদিত মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থানই ছিল না; বরং সেগুলো তাদের সময়ে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি বলেন, এই শিলাখোদিত মসজিদগুলো আমাদের জাতির ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করে। ইউনেস্কো এগুলোকে শতাব্দীব্যাপী আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এর আগে কাজাখস্তানের সর্বশেষ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতি ছিল ২০০৩ সালে খোজা আহমদ ইয়াসাভির সমাধিসৌধ এবং ২০০৪ সালে তামগালির প্রত্নতাত্ত্বিক ভূদৃশ্যের শিলাচিত্রগুলো। তবে দেশটি ঝারকেন্ট মসজিদ, আলমাতির অ্যাসেনশন ক্যাথেড্রাল, কারাতাউয়ের শিলাচিত্র ও আবাইয়ের নৈতিক উপদেশগুলোকেও ইউনেস্কোর ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাবে বলে জানিয়েছে।
সূত্র : দ্য আস্তানা টাইমস

