spot_img

শাপলা চত্বরে হত্যা: প্রসিকিউশনের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন, শেখ হাসিনাহ আসামি ৪১

অবশ্যই পরুন

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রস্তুত করা তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছেছে এবং প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদনটি আজ রোববার সকালে প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেটি পর্যালোচনার কাজ চলছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এছাড়া এ মামলার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে কিছুক্ষণ পর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের নামও রয়েছে।

এছাড়াও মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর। সেই সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ ও র‌্যাব প্রধানসহ ডিএমপি কমিশনারকেও এতে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের মামলার অগ্রগতি জানতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এসেছেন দলটির শীর্ষ নেতাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল। রোববার সকালে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর সাহেব) নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন বাতিল এবং ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওই দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঢাকায় সমবেত হন।

পরবর্তীতে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকে ঘিরে বহু হতাহতের অভিযোগ ওঠে। সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হেফাজতে ইসলাম এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে। পরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই তদন্ত সম্পন্ন করে।

বর্তমানে এই মামলায় চারজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন-সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।

সর্বশেষ সংবাদ

তানজিদের ব্যাটে ভর করে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় বা শেষ টি-টোয়েন্টিতে তানজিদ হাসানের ব্যাটে ভর করে সহজ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের দেওয়া...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ