ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। তবে এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বুশেহর, চোগাদাক এবং দক্ষিণাঞ্চলের কোনারক শহরের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বুশেহরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান জানান, বিস্ফোরণের সময় বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ একটি বস্তু আঘাত হেনেছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
এরইমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশ ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ হয়নি এবং সামনে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সুরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, প্রয়োজন হলে তৃতীয় দফায়ও ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান দাবি করছে, এ জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে হবে। অন্যদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ইরানি নেতৃত্বের সমালোচনা করে দেশটির তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া ছাড় প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল রয়েছে, তবুও পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির কারণে সেই সমঝোতা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

