spot_img

নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই প্রযুক্তিতে বিশ্বসেরা হবে চীন: শি

অবশ্যই পরুন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চমাত্রার স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উদ্ভাবনকে চীনের আধুনিকায়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বুধবার (৮ জুলাই) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, চীনা বিজ্ঞান একাডেমি (CAS), চীনা প্রকৌশল একাডেমি (CAE)-এর সাধারণ অধিবেশন এবং চায়না অ্যাসোসিয়েশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ১১তম জাতীয় কংগ্রেসে তিনি এ আহ্বান জানান।

শি জিনপিং বলেন, ২০২৬-২০৩০ সালের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে দেশকে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ হওয়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নতুন প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও শিল্প রূপান্তর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর পরিবর্তন আনছে। তাই চীনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জীবনবিজ্ঞান, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত উৎপাদন, গভীর সমুদ্র, মহাকাশ ও ভূগর্ভস্থ গবেষণার মতো কৌশলগত খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ ও গবেষণা জোরদার করতে হবে।

শি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

চ্যাং’ই-৬ অভিযানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চাঁদের দূরবর্তী অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ,
স্মার্ট রোবট ও ড্রোন প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি,
বিশ্বে প্রথম উদ্ভাবনী ওষুধ তৈরির সক্ষমতা অর্জন,
এবং দেশের ৯৫ শতাংশের বেশি কৃষিজমিতে দেশীয় উন্নত ফসলের জাতের ব্যবহার।

তার মতে, এসব অর্জনের ফলে চীন এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং বৈশ্বিক নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে শি জিনপিং স্বীকার করেন, মৌলিক গবেষণায় সক্ষমতার ঘাটতি, দক্ষ জনবলের ভারসাম্যহীনতা এবং গবেষণায় বিনিয়োগের অদক্ষ ব্যবহার এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, গবেষণায় অপচয় ও একই ধরনের প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে প্রতিটি অর্থ যেন কার্যকরভাবে ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী তৈরিতে তরুণদের বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ওপরও গুরুত্ব দেন শি। তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে এবং শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞানমনস্কতা, পরীক্ষণ দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে শি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি অবশ্যই মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হতে হবে। এ জন্য প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের চীনের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পুরস্কার প্রদান করেন শি জিনপিং। এ বছর এই সম্মাননা পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞান একাডেমির পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের গবেষক চেন লিচুয়ান এবং চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশনের গবেষক বেন দে।

এ ছাড়া এ বছর মোট ২৫৮টি প্রকল্প ও ১১ জন বিজ্ঞানীকে বিভিন্ন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতার জন্য ৯ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞকে চায়না ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কো-অপারেশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

সূত্র: সিনহুয়া

সর্বশেষ সংবাদ

নতুন শত্রু খুঁজছে ইসরায়েল: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়ানোর কোনো কারণ দেখছেন না বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন,...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ