মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে ব্রিটিশ পাউন্ড। ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য বেড়ে গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে ইউরোর বিপরীতেও এক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে স্টার্লিং।
শুক্রবার লেনদেনে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দর বেড়ে ১ দশমিক ৩৪৫ ডলারে দাঁড়ায়, যা গত ১৫ জুনের পর সর্বোচ্চ। সর্বশেষ হিসাবে পাউন্ডের মূল্য প্রায় ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোর বিপরীতে পাউন্ড আরও শক্তিশালী হয়েছে। একপর্যায়ে ইউরোর মূল্য নেমে আসে ৮৫ দশমিক ১৮ পেন্সে, যা গত এক বছরের মধ্যে পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর সর্বনিম্ন অবস্থান। পরে অবশ্য ইউরো কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাজারে পাউন্ডের ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত—এসব কারণ পাউন্ডকে শক্তিশালী করেছে।
মোনেক্স ইউরোপের সিনিয়র বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ ব্যারি ভ্যান ডার ল্যান বলেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিউ পিলের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার মন্তব্য বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা আরও জোরালো হয়েছে যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ কিংবা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে নতুন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য না আসায় পাউন্ডের পরবর্তী গতিপথ মূলত ডলারের বৈশ্বিক অবস্থান, তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। সংস্থাটির মতে, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ১ শতাংশ সম্প্রসারিত হতে পারে। চলতি বছর জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পর যুক্তরাজ্য তৃতীয় দ্রুততম প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে আইএমএফ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ইরানের তেল বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল প্রায় ৭৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এ ছাড়া লেবার পার্টির ভেতরে অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থনও বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পাউন্ডের ওপর আস্থা বাড়িয়েছে। তবে তাঁর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রকাশের পর বাজারে নতুন করে ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স

