spot_img

কিংবদন্তি পপ তারকা বনি টাইলার আর নেই

অবশ্যই পরুন

আশির দশকের জনপ্রিয় ওয়েলশ পপ গায়িকা ও গীতিকার বনি টাইলার মারা গেছেন। বিশ্বজুড়ে কোটি শ্রোতার হৃদয় জয় করা এই শিল্পী বুধবার (৮ জুলাই) রাতে পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গায়িকার পরিবারের সদস্য ও ব্যান্ডের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর্তুগালের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে গত মে মাসে পর্তুগালের ফারোর কাছে একটি হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে তার অন্ত্রের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর কিছু সময় তাকে কোমায় রাখা হয়েছিল। পরে কোমা থেকে ফিরলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা চলছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বনি টাইলারের স্বতন্ত্র কর্কশ কণ্ঠই তাকে বিশ্বসংগীতে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। তবে এই কণ্ঠ ছিল একটি অস্ত্রোপচারের অনাকাঙ্ক্ষিত ফল। ১৯৭৭ সালে ভোকাল কর্ডের নডিউল অপসারণের পর চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল কিছুদিন কথা না বলা। কিন্তু একদিন জোরে চিৎকার করার ফলে তার কণ্ঠস্বর স্থায়ীভাবে বদলে যায় এবং সেটিই পরবর্তীতে তার পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।

এর প্রায় ছয় বছর পর প্রকাশিত হয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘Total Eclipse of the Heart’। গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাকে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন এনে দেয়। এরপর ‘Holding Out for a Hero’ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পপসংগীতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। দুটি গানই পরবর্তীতে অসংখ্য চলচ্চিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়েছে।

কিশোরী থেকে বিশ্বতারকা

১৯৫১ সালে দক্ষিণ ওয়েলসে জন্মগ্রহণ করেন বনি টাইলার। তার আসল নাম ছিল গেইনর হপকিন্স। বাবা ছিলেন কয়লাখনির শ্রমিক এবং মা ছিলেন গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।

মাত্র সাত বছর বয়সে স্থানীয় গির্জার একটি সংগীতানুষ্ঠান দেখে সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসার শুরু। পরে আত্মজীবনী Straight from the Heart-এ তিনি লিখেছিলেন, তিনি ছিলেন ভীষণ লাজুক, কিন্তু মানুষের সামনে গান গাওয়ার প্রবল ইচ্ছা সবসময়ই কাজ করত।

কিশোর বয়সে ব্যাকিং ভোকালিস্ট হিসেবে সংগীতজীবন শুরু করেন তিনি। সত্তরের দশকে কয়েকটি অ্যালবাম প্রকাশ করলেও আশির দশকের শুরুতে প্রখ্যাত গীতিকার ও প্রযোজক জিম স্টেইনম্যানের সঙ্গে কাজ করার পরই আন্তর্জাতিক সাফল্য পান।

স্টেইনম্যানের লেখা ‘Total Eclipse of the Heart’ প্রথম শোনার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বনি একবার বলেছিলেন, “আমি তখনই বুঝেছিলাম, এটাই সেই গান, যার জন্য সারা জীবন অপেক্ষা করেছি।” গানটি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের চার্টের শীর্ষে উঠেছিল এবং বর্তমানে স্পটিফাইয়ে এক বিলিয়নের বেশি স্ট্রিম অর্জন করেছে।

ব্যক্তিজীবন ও সম্মাননা

নব্বইয়ের দশক থেকে নিজ দেশ যুক্তরাজ্যের তুলনায় নরওয়ে, অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সে তিনি বেশি জনপ্রিয়তা পান। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের হয়ে ইউরোভিশন সং কনটেস্টে অংশ নেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তাকে অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

১৯৭৩ সালে প্রোপার্টি ডেভেলপার রবার্ট সুলিভানকে বিয়ে করেন বনি টাইলার। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান ছিল না।

গেইনর হপকিন্স নামটি তার পছন্দ না হওয়ায় পরবর্তীতে নিজেই ‘বনি টাইলার’ নামটি বেছে নেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিভিন্ন নামের তালিকা থেকে মিলিয়ে এই নামটি নির্বাচন করেছিলেন, কারণ তার কাছে এটি ছিল “দারুণ একটি নাম”।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ সংবাদ

নতুন শত্রু খুঁজছে ইসরায়েল: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়ানোর কোনো কারণ দেখছেন না বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন,...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ