ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে ইউরোপীয় দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে এই বেআইনি হামলায় সহযোগিতা করার জন্য ইউরোপকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক কঠোর বিবৃতিতে বাঘাই এই হুঁশিয়ারি দেন।
ইরানের মুখপাত্র ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন, যেখানে রুট এই সংঘাত ও আগ্রাসনে ইউরোপের সম্পৃক্ততা নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করেছিলেন।
ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরপেক্ষতার দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ইসমাইল বাঘাই বলেন— ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসী যুদ্ধে ইউরোপের ইচ্ছাকৃত সম্পৃক্ততার বিষয়ে মার্ক রুটের বারবার স্বীকারোক্তি কেবল এটাই নিশ্চিত করে যে, এই নৃশংস ও বেআইনি আগ্রাসনে তারা মোটেও নিরপেক্ষ ছিল না।
মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যেসব ইউরোপীয় দেশ এই হামলা সফল করতে নিজেদের ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করতে দিয়েছে, তাদের অবশ্যই এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা এই আগ্রাসনকে সম্ভব করার জন্য তাদের ভূখণ্ড, সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো সরবরাহ করেছে, তারা এই বিনা উস্কানির আগ্রাসন এবং এর গুরুতর পরিণতিতে তাদের অবদানের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের বক্তব্যকে কৌশলগত শক্তির প্রতীক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দাসসুলভ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাঘাই।
বিবৃতিতে তিনি রুটকে ট্যাগ করে আরও লেখেন— একটি অবৈধ ইচ্ছাকৃত যুদ্ধে সহায়তা করার জন্য ন্যাটোর এই অবিরাম আত্ম-অভিনন্দন কোনো শক্তির প্রতিফলন নয় — এটি একজন তোষামোদকারী সভাসদের দাসসুলভ মানসিকতাকে উন্মোচন করে, যে মনে করে তোষামোদ রাজার অবজ্ঞা মুছে ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনের চোখে, একটি অকার্যকর সংস্থাকে তোষামোদের মাধ্যমে কার্যকর করা যায় না — আর এই ধরনের চাতুরীপূর্ণ তোষামোদ কখনো তোষামোদকারীর আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিগত সততাও ফিরিয়ে আনতে পারে না। মেহের নিউজ

