অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরকালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা অপরিসীম। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অব্যবহৃত ইউরেনিয়াম মজুদ। তবে আইনি জটিলতা এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এতদিন এই চুক্তিটি আটকে ছিল। খবর এনডিটিভির।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, ‘আমরা পারমাণবিক জ্বালানি বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ সুগম করবে এবং আমাদের পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানি (ক্লিন এনার্জি) কর্মসূচিকে নতুন গতি দেবে।’
উভয় দেশের পক্ষ থেকে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুরক্ষাকবচের অধীনে ‘শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে’ দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়াম রপ্তানির অনুমতি দেবে এই চুক্তি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম যাতে ভারতে রপ্তানি করা যায়, এই চুক্তি সেই সুবিধাই নিশ্চিত করবে। এর ফলে ভারতে জীবাশ্ম-বিহীন জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’
পারমাণবিক বিদ্যুৎ বা অস্ত্র তৈরি করে না, বরং এর পুরোটাই রপ্তানি করে। অন্যদিকে, ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা দেশটির ৬০ কোটি পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা দেবে।
গত এক দশকে ভারত তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করেছে। তবে ইউরেনিয়াম নিয়ে জটিলতার কারণে এটি এখনও দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৩ শতাংশের বেশি পূরণ করতে পারছে না। অস্ট্রেলিয়া পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির (এনপিটি) একটি স্বাক্ষরকারী দেশ। এই চুক্তি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং রাশিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে এনপিটিতে স্বাক্ষর না করায় ভারতের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কাছে এতদিন ইউরেনিয়াম বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল অস্ট্রেলিয়া।
তবে ২০০৮ সালে এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ’ (এনএসজি) ভারতকে তাদের সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে ইউরেনিয়াম কেনার অনুমতি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। এরপর থেকেই বিভিন্ন দেশের সাথে ইউরেনিয়াম নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে আসছে দিল্লি।

