যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনায় নতুন করে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা ভঙ্গের বিষয় হবে ইরানের মূল আলোচ্য বিষয়। রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক এলাকায় দুই দেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা বলেন।
তিনি জানান, “চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় যাওয়ার জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধারা হলো সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা—লেবাননসহ।”
বাঘাই দাবি করেন, এই ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র হয় এটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি, নয়তো করতে চায়নি। জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা তাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে চলেছে। আজকের আলোচনার মূল বিষয় এটিই।”
তিনি আরও বলেন, এই বৈঠক প্রমাণ করে যে ইরান অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুসরণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো নথিতে স্বাক্ষর করতে চাইনি যেখানে ধরে নেওয়া হয় যে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য পক্ষ বাস্তবায়ন করবে। আমরা আগের অভিজ্ঞতা ভুলে যাই না।”
গত বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্চুয়ালি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন, যা দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা স্থায়ীভাবে শেষ করার কথা বলে।
১৪ দফার এই চুক্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও আলোচনার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল পুনরায় চালু করা।
শনিবার ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড দাবি করে, মার্কিন ও ইসরায়েলি লঙ্ঘনের কারণে হরমুজ প্রণালীকে সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

