বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, কেশম দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলছে, ইরানের ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে এবং কোনও মার্কিন ঘাঁটি বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এলো।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এবং এই অঞ্চলের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর যে দাবি করেছে, তা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, আইআরজিসির দাবি মিথ্যা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সব হামলাই ব্যর্থ হয়েছে। অযৌক্তিক ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মার্কিন বাহিনী সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।’
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরান আরেক দফা হামলা চালায়। তবে সেই হামলাও ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা সেন্টকমের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনও মার্কিন সেনা সদস্য বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বৈারে সেন্টকম জানায়, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযানের অংশ হিসেবে কেশম দ্বীপে ইরানের একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার একটি বিবরণ প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালালে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর জবাবে আইআরজিসি নৌ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত আইআরজিসির একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালায়।
পরে আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি, যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এবং এই অঞ্চলের অন্য একটি দেশে অবস্থানরত মার্কিন হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়।

