ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও। খবর আল জাজিরা’র।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সিনেটের প্রতিরক্ষা বিষয়ক শুনানিতে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অস্ত্র মজুত নিশ্চিত করতে চায়।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করছি। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সামরিক অভিযান— অপারেশন এপিক ফিউরির জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত গোলাবারুদ যেন মার্কিন বাহিনীর হাতে থাকে। আমাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে, তবে প্রশাসন উপযুক্ত মনে না করা পর্যন্ত এই বিদেশি সামরিক বিক্রয় স্থগিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদেশে অস্ত্র বিক্রি পুনরায় চালু করা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ানের অস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন তিনি দিতেও পারেন, নাও দিতে পারেন।
এছাড়া ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অস্ত্র চুক্তিকে তিনি চীনের সঙ্গে আলোচনায় দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস জানুয়ারিতে এই অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করলেও তা কার্যকর করতে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। যদি এটি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে এটি হবে তাইওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মার্কিন অস্ত্র চুক্তি। এ নিয়ে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই জানিয়েছেন, তাইপে ভবিষ্যতেও অস্ত্র ক্রয়ের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থগিতাদেশ তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করে আসছে।

