প্রবাসের মাটিতে বাঙালিয়ানার রঙ, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল গত ১৬ মে পেনসিলভেনিয়ার পেনউড হাইস্কুল প্রাঙ্গণ। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডেলাওয়্যার ভ্যালি (বিএডিভি ) আয়োজিত বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩৩ উৎসব বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ আর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। প্রবাসী বাংলাভাষাভাষী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, বর্ণিল ও উৎসবমুখর।
বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। বাংলাদেশের ঐতিহ্যের প্রতীক রিকশায় চড়ে মঞ্চে আগমন করেন বিএডিভি -এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফারহানা আফরোজ চৌধুরী এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট শোয়েব আহমেদ। উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। এরপর কবুতর উড়িয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সম্মিলিতভাবে “এসো হে বৈশাখ” পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক আয়োজন।
দিনব্যাপী আয়োজনে সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ, অতিথিদের বক্তব্য এবং সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণে ছিল বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শুভ্রদেব। তার মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নেয় এবং উৎসবকে এনে দেয় বিশেষ মাত্রা।

শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি পায় আরও প্রাণচাঞ্চল্য। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ক্ষুদে শিল্পীরা তাদের কল্পনা ও তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলে প্রিয় বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা রূপ। পাশাপাশি বিশেষভাবে সাজানো কিডস জোন শিশুদের হাসি, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে সারাদিন ছিল মুখর।
অনুষ্ঠানের আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল বৈশাখী মেলা। দেশীয় সংস্কৃতির আবহে সাজানো মেলায় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার, পোশাক ও নানা পণ্যের স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি উৎসবকে রূপ দেয় এক প্রাণের মিলনমেলায়।
বাংলাদেশি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএডিভি -এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট শোয়েব আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইফতেখার আহমেদ, জেনারেল সেক্রেটারি শাহীদা আফরোজ, কালচারাল সেক্রেটারি মাজরেহা বিনতে জাহের, সোশ্যাল সেক্রেটারি মো. নূর-ই-আলম পলাশ, ট্রেজারার রাজিয়া সুলতানা এবং এক্সিকিউটিভ সদস্য তানজিরা আহমেদ, ফারজানা মির্জা, সুলতানা এফ রহমান ও রাব্বী মামুন।
প্রেসিডেন্ট শোয়েব আহমেদের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য বাংলা বর্ষবরণ উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে। তবে অংশগ্রহণকারীদের প্রাণে থেকে যায় প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশের উষ্ণতা, আনন্দ ও সংস্কৃতির রঙিন স্মৃতি।

