সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তি, দুর্নীতির অভিযোগসহ সংবিধানপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে যে রিট আবেদন করা হয়েছিল, গতকাল রবিবার সেটিতে প্রাথমিক শুনানি হয়েছে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হয়।
আগামী বৃহস্পতিবার রিটটি আদেশের জন্য রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
পরে এম কে রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট অনুযায়ী একটি কমিশন হওয়া বাঞ্ছনীয়। কোর্ট শুনেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলও ছিলেন। আগামী বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য দিন রেখেছেন।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর ড. ইউনূস স্বার্থের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) যেসব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বা ভোগ করেছেন, তা নিয়ে গত ২ এপ্রিল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ। এর আগে-পরে অন্তর্বর্তী সরকার ও উপদেষ্টাদের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আরো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ২৯ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিটে বলা হয়, সরকারপ্রধান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যা আইনি পর্যালোচনার দাবি রাখে। তিনি অবৈধভাবে নিজের এবং তাঁর মালিকানা অথবা কর্তৃত্বাধীন সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে থাকা সব বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহার করিয়েছেন, যেখানে আয়করসংক্রান্ত ৩৮টি রিট ও রেফারেন্স মামলা ছিল।
এসব মামলায় কর ফাঁকির পরিমাণ ছিল ১১১ কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১১২ টাকা। এ ছাড়া তাঁর একটি প্রতিষ্ঠানের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দায় মওকুফ করিয়েছেন। তিনি জনশক্তি রপ্তানি, ডিজিটাল ওয়ালেট অপারেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লাইসেন্সসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। ড. ইউনূসের এসব কর্মকাণ্ড কেবল প্রতিষ্ঠিত আইনের পরিপন্থীই নয়, বরং জবাবদিহি, আইনের শাসনের মৌলিক ভিত্তিকে আঘাত করেছে। ফলে আইনের শাসন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আর এ তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা অপরিহার্য।
যে কারণে রিটের প্রার্থনা অংশে ড. ইউনূসের আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তি, দুর্নীতিসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধানপরিপন্থী কর্মকাণ্ড তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।

