দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গোপনে ইরাকের মরুভূমিতে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল, যা ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বিমান অভিযানে সহায়তা করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঘাঁটিটি প্রায় আবিষ্কৃত হয়ে যাওয়ার পর সেখানে তদন্তে যাওয়া ইরাকি সেনাদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার অল্প কিছু আগে এই গোপন ঘাঁটি স্থাপন করা হয়।
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটি সম্পর্কে অবগত ছিল। সেখানে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী অবস্থান করতো, এটি ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য একটি লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং কোনো ইসরায়েলি পাইলট ভূপাতিত হলে উদ্ধারকারী দলও সেখানে প্রস্তুত থাকতো।
মার্চের শুরুতে এক স্থানীয় রাখাল “অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতা”, বিশেষ করে হেলিকপ্টারের চলাচল লক্ষ্য করে কর্তৃপক্ষকে জানালে ঘাঁটিটির বিষয়টি প্রায় ফাঁস হয়ে যায়। পরে ইরাকি সেনারা ঘটনাস্থলে তদন্তে গেলে তাদের ওপর ভারী গুলি চালানো হয়। এতে একজন ইরাকি সেনা নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।
এলাকাটিতে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পর বাগদাদ প্রথমে এ ঘটনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছিল।
ইরাকের যৌথ অভিযান কমান্ডের উপ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কায়েস আল মোহাম্মাদাউ ইরাকি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “মনে হচ্ছে হামলার আগে সেখানে একটি বাহিনী অবস্থান করছিল, যারা আকাশপথ থেকে সহায়তা পাচ্ছিল এবং আমাদের ইউনিটগুলোর সক্ষমতার বাইরে কাজ করছিল। এই বেপরোয়া অভিযান কোনো সমন্বয় বা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘাঁটি ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘপাল্লার বিমানযুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করেছে। ইরানের ভূখণ্ড ইসরায়েল থেকে প্রায় ১ হাজার৬০০ কিলোমিটার দূরে।
পাঁচ সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ইসরায়েলি বিমান হাজারো হামলা চালায় এবং ইরাকের মরুভূমিতে স্থাপিত এই ঘাঁটি যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি একটি অগ্রবর্তী অবস্থান হিসেবে কাজ করে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই প্রতিবেদন ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত কীভাবে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলছে— সে বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মার্চ মাসে পদত্যাগ করা সাবেক মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা জো নেট অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এমন এক যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে ঠেলে দিয়েছে, যদিও মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল যে তেহরান সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছিল না।
কেন্টের দাবি, মার্কিন সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল যে, হামলা হলে ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। তার মতে, ইরানকে ঘিরে ইসরায়েলের উপস্থাপিত হুমকির বর্ণনাই শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনে “প্রাধান্য পায়” এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাস্পের কর্মকর্তারা অস্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সপ্তাহে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প “আমেরিকার স্বার্থ” এবং তার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এই ধারণাকে “ভুল ভিত্তি” বলে উল্লেখ করেন যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়হু যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে এনেছেন।
সূত্র: আরটি

