spot_img

আশা করি দ্রুতই শেষ হবে ইরানকে ঘিরে সংঘাত: পুতিন

অবশ্যই পরুন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকা কারও জন্যই লাভজনক নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরান-সম্পর্কিত সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ হবে।

পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সংঘাত অত্যন্ত জটিল এবং এটি আমাদের কঠিন অবস্থায় ফেলেছে, কারণ ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া আশা করে ইরানকে ঘিরে বিরোধ দ্রুত শেষ হবে। এ লক্ষ্যে মস্কো ইরান-ইসরায়েল উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

পুতিন জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি সবার জন্য ক্ষতিকর হবে। তার মতে, যেকোনো সমঝোতা এমন হতে হবে যাতে অঞ্চলের সব দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, পারমাণবিক বিষয়ে রাশিয়ার প্রতি ইরানের আস্থা অমূলক নয় এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মস্কোর প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে।

তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, রাশিয়া কারও সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চায় না, তবে কিয়েভের উসকানির জবাব দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।

পুতিন জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর যুদ্ধবিরতি বাড়ানো ও যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের প্রস্তাবে মস্কো সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি জানিয়েছে। তিনি বলেন, ৫ মে রাশিয়া ইউক্রেনকে বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাব দেয় এবং ৫০০ ইউক্রেনীয় সেনার একটি তালিকা পাঠায়।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন বিজয় দিবসের আগে জানিয়েছিল যে তারা বন্দি বিনিময়ের জন্য প্রস্তুত নয়, তবে রাশিয়া এখনো আশা করে এই বিনিময় সম্পন্ন হবে।

পুতিন আরও জানান, স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনেস্কির সাক্ষাতের আগ্রহের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো তথ্য নয়।

তিনি বলেন, তিনি জেলেনস্কিকে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিচ্ছেন না, তবে এমন সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যানও করবেন না। জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে আসতে পারেন। তার মতে, এই সাক্ষাৎ আলোচনা শুরুর নয়, বরং শান্তি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হওয়া উচিত।

পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করে, তবে সংঘাতের সমাধান মূলত মস্কো ও কিয়েভের ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্ব অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। মস্কো আশা করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হবে না।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্থিতিশীল সম্পর্ক রাশিয়ার স্বার্থের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দুই দেশের চলমান যোগাযোগকে রাশিয়া ইতিবাচকভাবে দেখে।

পুতিনের দাবি, ফিনল্যান্ডের নেতারা ভেবেছিলেন রাশিয়া দুর্বল হয়ে পড়বে, তাই তারা ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে। একইভাবে পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে আশা করেছিল কয়েক মাসের মধ্যেই রুশ রাষ্ট্র ভেঙে পড়বে, কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

শেষে তিনি বলেন, ইউরোপ এখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাইছে, কারণ তারা বুঝতে পেরেছে ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ানোর খরচ অনেক বেশি। তার আশা, ভবিষ্যতে রাশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হবে, যা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।

সূত্র: ইরনা

সর্বশেষ সংবাদ

১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলো এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ১০০ জন প্রার্থীর নাম...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ