ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরাকের সরকার গঠনের জন্য মনোনীত প্রধানমন্ত্রী আলি ফালেহ আল-জাইদির সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ইরাকি সরকার দক্ষতা, জ্ঞান ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্থিতিশীলতা, উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেবে।
ইরনা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তার দায়িত্বের জন্য শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ইরাকের সরকার ও জনগণকে কেবল প্রতিবেশী নয়, বরং ভাই হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা ও বহুমুখী সম্পর্ক জোরদারে ইরান সব ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন করে।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সমস্যার অন্যতম মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও যুদ্ধনীতি, যা ইরানসহ বিভিন্ন দেশের ওপর প্রভাব ফেলছে। তার মতে, একদিকে চাপ সৃষ্টি করে আবার অন্যদিকে আলোচনার আহ্বান জানানো দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।
পেজেশকিয়ান দাবি করেন, আলোচনার সময় ইরান একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে এবং বর্তমানে কথাবার্তার মধ্যেও সামরিক হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সব বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে ইরান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তারের আহ্বান জানান।
তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে ইরান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ইরাকের মনোনীত প্রধানমন্ত্রী আলি ফালেহ আল-জাইদি বলেন, তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে—যা দুটি দেহে এক আত্মার মতো—অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আরও উন্নত করতে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ইরান ইরাকের কৌশলগত গভীরতা এবং একইভাবে ইরাকও ইরানের কৌশলগত অংশীদার। তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনায় ইরাকের মধ্যস্থতার প্রস্তুতির কথাও জানান।
শেষে তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধ ও সংকটের অবসান ঘটানো সম্ভব।
সূত্র: ইরনা

