মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব ‘পারমাণবিক ধূলিকণাও’ নিজেদের অধীনে নিয়ে নেবে এবং এর জন্য কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের দুর্দান্ত বি-২ বোমারু বিমানের মাধ্যমে সৃষ্ট সব ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ যুক্তরাষ্ট্র পাবে— এ জন্য কোনোভাবেই কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হবে না।’
ট্রাম্পের ব্যবহৃত ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ শব্দটি আসলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও পারমাণবিক জ্বালানি শিল্পে এটি পরিচিত কোনো পরিভাষা নয়।
ট্রাম্প সম্ভবত অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিনিময়ে ইরানের জব্দকৃত ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সুরক্ষিত করার এই চুক্তির সঙ্গে কোনোভাবেই লেবাননের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে লেবাননের সাথে কাজ করবে এবং হিজবুল্লাহ পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইসরায়েল আর লেবাননে বোমা হামলা চালাবে না, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের এমনটা করতে নিষেধ করা হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়।’
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এর প্রেক্ষিতে ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইরান এইমাত্র ঘোষণা করেছে যে প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত এবং পূর্ণ চলাচলের জন্য প্রস্তুত। ধন্যবাদ!’
তবে হরমুজে ইরানের ওপর জারি করা একক নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি এখন ব্যবসা এবং জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরানের সঙ্গে আমাদের যাবতীয় লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণমাত্রায় বহাল থাকবে।’
সূত্র : সিএনএন

