লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফল পরিণতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইরানের তত্ত্বাবধানে নিরাপদভাবে সমুদ্রপথে কার্যক্রম আবার শুরু হচ্ছে।
আরাঘচি বলেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা পূর্বে ঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।”
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় জলপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে তেহরান এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেয়।
এই ৪০ দিনের সংঘর্ষে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী উল্লেখযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করে এবং অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ১০০ দফা সফল পাল্টা হামলা চালায়।
শুক্রবারের এই সমুদ্রপথ সংক্রান্ত ঘোষণা তেহরানের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্যের পর আসে।
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে। তেহরানের নির্ধারিত শর্তগুলোর একটি ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি; যা মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানও পুনর্ব্যক্ত করে।
তবে শুরুতে পরিকল্পনাটি গ্রহণ করলেও পরে ইসরায়েলের তীব্র চাপের মুখে ওয়াশিংটন পিছু হটে। একই দিনে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে ৩০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করে।
ইরান এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ না নেওয়ার হুমকি দেয় তেহরান, যদি লেবাননে হামলা অবিলম্বে কমানো না হয়। এই দৃঢ় অবস্থানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে চাপ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে গত রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। মধ্যরাতে লেবাননে এই নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
সূত্র: প্রেস টিভি

