spot_img

কোরআনের বর্ণনায় কুখ্যাত শাসকদের শেষ পরিণতি

অবশ্যই পরুন

রাজত্ব, সম্পদ ও প্রভাব- এগুলো মহান আল্লাহর দান। এগুলো পাওয়ার পর কেউ যদি মহান আল্লাহর শোকর আদায় করে, তার কাছে নত থাকে, তবে এগুলো তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর যদি কেউ অহংকারী ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তবে এগুলো দুনিয়া-আখিরাতে তার চূড়ান্ত পতনের কারণ হয়। পৃথিবী যেমন ক্ষণস্থায়ী, তার চেয়ে বেশি ক্ষণস্থায়ী আল্লাহদ্রোহী জালিমদের রাজত্ব। বাহ্যিকভাবে তাদের যতই অপ্রতিরোধ্য ও শক্তিশালী মনে হোক না কেন, বাস্তবে তাদের চেয়ে দুর্বল ও হতভাগা আর কেউ নেই।

যার প্রমাণ যুগে যুগে মহান আল্লাহ দিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু কুখ্যাত রাজা রয়েছে, যারা শুধু গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র অধিপতি মহান আল্লাহকে অস্বীকারই করেনি; বরং চরম ঔদ্ধত্যে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাঁর শক্তিকে তুচ্ছ করেছে। তারপর মহান আল্লাহ বিশ্ববাসীকে তাদের চরম লাঞ্ছনাকর পরিণতির সাক্ষী করেছেন। পবিত্র কোরআনে সেসব কুখ্যাত শাসকদের করুণ পরিণতির কথা উল্লেখ রয়েছে, যাতে কিয়ামত পর্যন্ত আসা প্রতিটি মানুষের জন্য সতর্কবার্তা রয়েছে।

নিম্নে পবিত্র কোরআনের আলোকে তেমন কিছু জঘন্য শাসকদের করুণ পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে-

ফিরাউন : ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ব্যক্তির একজন ফিরাউন। রাজত্ব, ক্ষমতা আর অর্থ-সম্পদ তাকে এতটাই অন্ধ করে তুলেছিল যে সে মহান আল্লাহকেই চ্যালেঞ্জ করতে সুউচ্চ টাওয়ার বানানোর নির্দেশ দিয়েছিল। (সুরা নাযিয়াত, আয়াত : ২৪)

তার সামরিক শক্তি ও অর্থ-সম্পদ তাকে এতটাই অন্ধ করেছিল যে সে মহান আল্লাহকে নিয়ে বিদ্রূপ করে বক্তব্য দিয়েছিল। পবিত্র কোরআনে তার সেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথাও উল্লেখ রয়েছে, ইরশাদ হয়েছে-

ফিরআউন বলল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের কোনো উপাস্য আছে বলে আমি জানি না। কাজেই ওহে হামান! তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও, অতঃপর আমার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ কর যাতে আমি মূসার উপাস্যকে দেখতে পারি, আমার নিশ্চিত ধারণা যে, সে একজন মিথ্যেবাদী।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ৩৮)

নাউজুবিল্লাহ! তার এই ঔদ্ধত্য আচরণ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কিছু দিনের মধ্যে মহান আল্লাহ সেই পাপিষ্ঠকে নির্মম ভাবে ডুবিয়ে মারেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘আর আমি বনী ইসরাইলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিলাম। আর ফিরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও সীমা-লঙ্ঘনকারী হয়ে তাদের পিছু নিল। অবশেষে যখন সে ডুবে যেতে লাগল, তখন বলল, ‘আমি ঈমান এনেছি যে, সে সত্তা ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যার প্রতি বনী ইসরাইল ঈমান এনেছে। আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’। (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৯০)

সুউচ্চ টাওয়ার বানিয়ে মহান আল্লাহকে দেখতে চাওয়া তথাকথিত প্রভাবশালী রাজা তার প্রবল শক্তিশালী সৈন্য বাহিনীসহ হাবুডুবু খেতে খেতে মরল।

নমরুদ : ইতিহাসের আরেক পাপিষ্ঠ শাসক নমরুদ। ৪০০ বছর রাজত্ব করা সেই বাদশা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, মহান আল্লাহর ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল, ‘আমি জীবন দিই ও মৃত্যু দিই।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৮)

আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ায় ইবরাহিম (আ.)-কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছিল। অথচ মহান আল্লাহ তাকে ক্ষুদ্র মশার আক্রমণে দুনিয়া থেকে বিদায় করেছিল। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

কারুন : পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ধনী ছিল কারুন। সে তার বিপুল সম্পদকে নিজের কৃতিত্ব মনে করে আল্লাহকে অস্বীকার করেছিল। পবিত্র কোরআনে তার সেই ঔদ্ধত্য বক্তব্যের বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, সে বলল, ‘আমি তো এই ধনভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়েছি আমার কাছে থাকা জ্ঞান দ্বারা’। সে কি জানত না যে, আল্লাহ তার পূর্বে বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, যারা ছিল তার থেকে শক্তিমত্তায় প্রবলতর এবং জনসংখ্যায় অধিক। আর অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না। (সুরা কাসাস, আয়াত : ৭৮)

তার জাঁকজমক চলাফেরা ধন-সম্পদের শোডাউন দেখে মানুষ তার মতো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করত। দিন দিন তার অংহকার বাড়তে লাগল, অবশেষে একদিন আল্লাহর চূড়ান্ত পাকড়াও চলে এলো। পবিত্র কোরআনে সেই দিনের কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি কারূন ও তার প্রাসাদকে মাটিতে ধসিয়ে দিলাম। তখন তার জন্য এমন কোনো দল ছিল না, যে আল্লাহর মোকাবিলায় তাকে সাহায্য করতে পারত এবং সে নিজেও নিজেকে সাহায্য করতে সক্ষম ছিল না। (সুরা কাসাস, আয়াত : ৮১)

এই ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছু মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তিনিই একমাত্র রাজাধিরাজ। তাকে মোকাবিলা করার সাধ্য কারো নেই।

সর্বশেষ সংবাদ

আবারও আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও এই সপ্তাহের শেষ দিকে আবারও আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত শনিবার...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ