ইরান ও ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে দেশটিতে আপাতত সাপ্তাহিক ছুটি দাঁড়াচ্ছে তিন দিন। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক বলেন, “আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, তবে আমরা ভালোর আশা করছি।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা প্রতি বুধবারকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারণে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। থাইল্যান্ডে এসি ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধতা, মিয়ানমারে যানবাহন ব্যবহার একদিন পরপর, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি এগিয়ে আনা এবং পরিকল্পিত লোডশেডিং প্রবর্তন, ফিলিপাইনে সরকারি দপ্তরে কাজের ঘর থেকে বাধ্যতামূলক, ভিয়েতনামে গণপরিবহন ও বাইসাইকেল ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার নতুন চার-দিনের সরকারি নিয়ম স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রযোজ্য হবে, স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা প্রদানের প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ। চালকদের জন্য ন্যাশনাল ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা কিছু মানুষকে অসন্তোষের মধ্যে ফেলেছে।
গত মাসে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এদিকে বাংলাদেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে এবং দেশজুড়ে পরিকল্পিত লোডশেডিং বা ব্ল্যাকআউট প্রবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইনে কিছু সরকারি দপ্তরে কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসা থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সরকারি খাতে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন। ভিয়েতনামে নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়ে ঘরে থাকার জন্য জোরালোভাবে উৎসাহিত করছে সরকার। এছাড়াও জনগণকে বাইসাইকেল চালানো, কারপুল করা, গণপরিবহন ব্যবহার এবং ‘অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার সীমিত করার’ আহ্বান জানানো হয়েছে।

