ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেল ব্যবহার করে, তাদেরও এই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। ট্রাম্পের আহ্বানে ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও চীনের মতো দেশগুলোর দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
তবে জাপান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের সামনে উচ্চ পর্যায়ের আইনি ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিনির্ধারণী বিভাগের প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি বলেছেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী ওই অঞ্চলে জাপানের নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন এবং সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
রোববার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি মনে করি ওই অঞ্চলে জাপানি নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্কতার মাত্রা অত্যন্ত বেশি।”
তিনি আরও বলেন, আইনগতভাবে সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করা হচ্ছে না। তবে বর্তমানে যে সংঘাত চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমুদ্রপথ। এটি পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ দেশগুলোকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং ২০ শতাংশেরও বেশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় পৌঁছে।
সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংবেদনশীল সমুদ্রপথে চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

