ইরান জানিয়েছে, দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ফলে শুধু ইরান নয়, বরং পশ্চিম এশিয়া ও ইউরেশিয়ার প্রায় ৩০ কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য পরিবহনের রুট হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে ইরান জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ফাওকে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের কৃষিমন্ত্রী গোলামরেজা নৌরি ফাও-এর মহাপরিচালক চু ডংইউকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকারী বাহিনী কৃষি উৎপাদন, সরবরাহ প্রক্রিয়া এবং কৃষিপণ্যের বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এই নেটওয়ার্ক প্রায় ৯ কোটি ইরানির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া ও ইউরেশিয়ার প্রায় ৩০ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদার একটি অংশ পূরণ করে, যারা ইরানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার।
ইরানের কৃষিমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, চলমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সড়কপথ, সমুদ্রপথ ও আকাশপথে পরিবহন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতাগুলো সরাসরি লঙ্ঘিত হচ্ছে, যেগুলো খাদ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা খাদ্য সরবরাহে হুমকি নিষিদ্ধ করে।
ফাও-এর প্রধানকে আহ্বান জানান, যেন তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং যুদ্ধের সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে দায়ীদের সতর্ক করেন।
তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর নীরবতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের বিষয়ে তাদের দ্বৈত নীতির প্রতিও গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।
এই সতর্কবার্তা এমন সময় এসেছে, যখন একদিন আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে যে ইরানের বেসামরিক বন্দরগুলো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দেয়।
এর জবাবে, ইরান ওই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ আগ্রাসনের অংশ হিসেবে ইরানের বন্দরে হামলা চালায়। তবে পারস্য উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর সব বন্দর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রকে ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি

