বর্তমানে ৫০ বছরের নিচে ক্যানসার ধরা পড়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে কোলোরেক্টাল বা কোলন ক্যানসার দ্রুত বাড়ছে তরুণদের মধ্যে। ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা.সৌরভ শেঠি জানিয়েছেন, গত ৩০ বছরে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, গবেষণা এখনও চললেও একটি বিষয় বারবার সামনে আসছে অতিরিক্ত আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার।
আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার ও কোলন ক্যানসারের যোগসূত্র
জার্নাল অফ টি মার্কিন মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দৈনিক ক্যালরির বড় অংশ আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার থেকে নেন, তাঁদের কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে যে নারীরা প্রতিদিনের ক্যালরির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার থেকে গ্রহণ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রি-ক্যানসারাস কোলন পলিপের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ বেশি।
এই ধরনের খাবার শরীরে যে সমস্যাগুলো তৈরি করতে পারে—
১. আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার কমান: হঠাৎ সব বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমান। ছোট পরিবর্তনই বড় ফল দেয়। যে খাবারগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ—
প্যাকেটজাত পাউরুটি
মিষ্টিযুক্ত দই
চিনি মেশানো সিরিয়াল
ফ্লেভার্ড কফি ক্রিমার
বোতলজাত সস
২. খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়ান: প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ২৫–৩৮ গ্রাম ফাইবার নেওয়া উচিত। ফাইবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায় এবং কোলনকে সুস্থ রাখে। ফাইবারের ভালো উৎস—
শাকসবজি
ফল
ডাল
পূর্ণ শস্য
৩. চিনিযুক্ত পানীয় কমান: লিকুইড সুগার শরীরে মেটাবলিক চাপ বাড়ায় এবং অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। পানি, ব্ল্যাক কফি বা চিনি ছাড়া চা এইগুলো ভালো বিকল্প।
৪. কম উপাদানের খাবার বেছে নিন: সুপারশপে কেনাকাটার সময় লেবেল পড়ুন। যদি উপাদানের তালিকা খুব বড় এবং জটিল হয়, তাহলে বুঝবেন সেটি বেশি প্রসেসড। সহজ ও ছোট উপাদান তালিকা—এটাই নিরাপদ পছন্দ।
৫. সতর্ক লক্ষণগুলো জানুন: নিচের উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা করবেন না। হঠাৎ পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন
মলে রক্ত
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
দীর্ঘদিন পেটব্যথা
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
কোলন ক্যানসার আগে সাধারণত বয়স্কদের রোগ হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস ও প্রসেসড খাবারের আধিক্যের কারণে এখন তরুণরাও ঝুঁকিতে। ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই ভবিষ্যতে বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

