spot_img

ইরানের হামলার পর ব্রিটিশ ঘাঁটি হটানোর দাবিতে সাইপ্রাসে বিক্ষোভ

অবশ্যই পরুন

সাইপ্রাসের দক্ষিণাঞ্চলীয় লিরাসোল শহরের বাসিন্দারা স্লোগান দিচ্ছেন—‘ব্রিটিশ ঘাঁটি বিদায় করো’। কারণ, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ভূমধ্যসাগরের এই শান্ত দ্বীপরাষ্ট্রকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। এই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে সম্প্রতি সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে একটি ইরানি ড্রোনের আঘাত হানার খবর।

১৯৬০ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা পেলেও সাইপ্রাসের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩ শতাংশ—আক্রোটিরি ও ডেকিলিয়া নামের দুটি সার্বভৌম ঘাঁটি যুক্তরাজ্যের দখলে রয়ে গেছে। অনেক সাইপ্রাসবাসীর কাছে এটি কেবল সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের এক ‘অবশিষ্টাংশ’। স্থানীয় অভিনেত্রী ও সংবাদ উপস্থাপিকা মেলানি স্টেলিও নিকোলাউ আল-জাজিরাকে বলেন, সাইপ্রাস কখনোই সত্যিকার অর্থে ডিকলোনাইজড বা ঔপনিবেশিকতামুক্ত হয়নি। এই ঘাঁটিগুলো আসলে মধ্যপ্রাচ্যে গোয়েন্দাগিরি করার আস্তানা।

এর মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানের ওপর ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলার’ অনুমতি দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে সহায়তা করতে এই ঘাঁটি থেকে অন্তত ৬০০টি নজরদারি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। অ্যাকটিভিস্টরা এই দ্বীপকে যুক্তরাজ্যের ‘ডুবন্ত বিমানবাহী রণতরি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের এই তৎপরতা সাধারণ সাইপ্রাসবাসীকে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। গত সোমবার ড্রোন হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো লিজ বা ভাড়ার চুক্তিতে থাকলেও সাইপ্রাসের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা নেই। পর্যটন খাত, যা সাইপ্রাসের জিডিপির ১৪ শতাংশ জোগান দেয়, তা এখন এই যুদ্ধের কারণে হুমকির মুখে। প্রচুর ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দ্বীপটির অর্থনীতি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা বাড়ানোর নামে আরও যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিকো নামের একজন স্থানীয় অ্যাকটিভিস্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এইসব কেন? কেবল ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের উসকানিমূলক হামলাকে সমর্থন করার জন্য আমাদের জীবন বিপন্ন করা হবে?’

অভিনেত্রী মেলানি জানান, গত সোমবারের বিক্ষোভ-মিছিলে অনেক বাবা-মা যোগ দিয়েছেন, যাঁরা তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ব্রিটিশদের কাছে জিম্মি এবং জনগণকে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইউরোপের একাধিক দেশ তাদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয় : আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের এক প্রতিনিধিদল। সোমবার (৯...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ