বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন-এর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং পেশাগত মান উন্নয়নে ৬ দফা দাবি পেশ করেন ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি হলো:
হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী সকল সরকারি হাসপাতালে অবিলম্বে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ।
বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার: বিসিএস পরীক্ষায় ফার্মাসিস্টদের জন্য আলাদা ক্যাডার পদ সৃষ্টি।
স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর: কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও মান উন্নয়নে পৃথক একটি পরিদপ্তর গঠন।
ফার্ম ডি প্রোগ্রাম: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি শিক্ষাকে ‘ফার্ম ডি’-তে রূপান্তর।
পদবি বিভাজন: সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাজুয়েটদের জন্য ‘ফার্মাসিস্ট’ এবং ডিপ্লোমাধারীদের জন্য ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ পদবি সুনির্দিষ্ট করা।
ডিজিডিএ ও রেজিস্ট্রেশন: ড্রাগ সুপার পদে শুধু গ্রাজুয়েট নিয়োগ এবং নিবন্ধনহীন ব্যক্তিদের অবৈধ ফার্মেসি প্র্যাক্টিস বন্ধ করা।
সভায় ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বে প্রতি ২০ শয্যায় একজন ফার্মাসিস্ট থাকলেও আমাদের সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের পদ নেই, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ হাজার রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকলেও মূল ধারার স্বাস্থ্যসেবায় তারা উপেক্ষিত।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর উল্লেখ করেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশনের মতো জটিল ঝুঁকি কমাতে হাসপাতালভিত্তিক ফার্মাসিস্ট নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি দাবিগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করেন। তবে এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে জোরালো জনমত ও জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আনোয়ার মাজিদ তারেক এবং প্রচার সম্পাদক মোঃ মমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ফার্মাসিউটিক্যাল সেবা নিশ্চিত করতে এই ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

