spot_img

হাতিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ; ঘটনার নেপথ্যে কী?

অবশ্যই পরুন

নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ভুক্তভোগী নারী দাবি করেন, তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

মারধরের ঘটনায় চিকিৎসা নিতে শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তিন সন্তানের জননী। পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ করেন। এরপর তাকে জরুরি বিভাগ থেকে গাইনী ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

নোয়াখালী সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী প্রথমে মারামারির বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে গাইনী বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।’

ভুক্তভোগীর দাবি, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। তিনজনের একজন তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এবারের নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘স্বামীসহ আমি রান্নাঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম। স্বামীকে সেখানে রেখে একজন আমাকে নিয়ে যায় এবং নির্যাতন করে। অপরজন দরজায় পাহারা দিচ্ছিলো।’

তবে অভিযোগকারীর প্রতিবেশীদের মতে তারা এমন কোনো ঘটনা টের পাননি।

একজন বাসিন্দা বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’

প্রতিবেশীদের কাছে অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, কে বা কারা জড়িত—এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

ভুক্তভোগীর আরেক প্রতিবেশী বলেন, ‘আমরা কোনো মিথ্যা কথা বলছি না। কাউকে ভুক্তভোগীর বাসায় আসতে দেখিনি এবং কোনো ধরনের বিরক্তির ঘটনাও ঘটেনি।’

এদিকে, অভিযুক্ত রহমান তার বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্টো তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজনই তার ওপর হামলা চালিয়েছে।

অভিযুক্ত রহমান বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করিনি। এসব অভিযোগ বানোয়াট ও মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমাকে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

হাতিয়াজুড়ে হামলা, নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সেনা অভিযানের দাবি জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ।

তিনি বলেন, ‘চানন্দী ইউনিয়নে দুটি ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ পেয়েছি। শাপলা কলিতে যোগ দেওয়াই তাদের অপরাধ। প্রশাসনকে বারবার বলার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হাতিয়ায় দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েন করে অস্ত্র উদ্ধার করা দরকার।’

রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপি নেতারা।

হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলা উদ্দুর বলেন, ‘ওই নারী স্বীকার করেছেন, অভিযুক্ত রহিম বিএনপির রাজনীতি করেন না; তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, গত নির্বাচনেও অভিযুক্ত রহিম কখনো ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচন করেননি।’

হাতিয়া পুলিশ জানায়, প্রকৃত ঘটনা জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। নোয়াখালী হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল আনোয়ার বলেন, ‘এটি এক ধরনের অতিরঞ্জিত প্রচারণা হতে পারে। মূলত ঘটনাটিকে বড় ইস্যু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সর্বশেষ সংবাদ

জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় গেলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি)...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ