ইরানের সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের ২৭টি দেশের এই জোটের এমন সিদ্ধান্তের কথা বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন ইইউ’র পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান কাজা কালাস।
কালাস বলেন, ‘এখন থেকে আইআরজিসি-কে আল-কায়েদা বা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলে বিবেচনা করা হবে, যে শাসনব্যবস্থা নিজেরদের নাগরিকদের হত্যা করে, তারা আসলে নিজেদের ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করছে নৃশংসতাকে এখন আর ছেড়ে দেয়া যায় না।’
এর আগে, ফ্রান্স এই পদক্ষেপে কিছুটা ইতস্তত করলেও, বুধবার তারা এই প্রস্তাবে জোরালো সমর্থন জানিয়ে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো একে এই ঘটনাকে ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সহিংস ঘটনা বলে অভিহিত করেন।
এই ঘটনায় ইইউ আইআরজিসি ছাড়াও ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি এবং প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদসহ ১৫ জন ব্যক্তি ও ৬টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে এসব ব্যক্তি ও সংস্থার সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
এর বিরোধিতায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউরোপের এই সিদ্ধান্তকে ‘কৌশলগত ভুল’ ও ‘লোক দেখানো নাটক’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউরোপ সংঘাত থামানোর বদলে ‘আগুনে ঘি ঢালছে’। আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত” এবং যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান অভিমুখে একটি বিশাল নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। তবে তিনি সামরিক সংঘাত এড়ানোর আশাও প্রকাশ করেছেন।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগছি বলেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ প্রস্তুত আছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর আইআরজিসি গঠিত হয়। ইরানের সামরিক, অর্থনৈতিক ও ক্ষেপণাস্ত্র–পরমাণু কর্মসূচিতে এই বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

