টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ব্যাটিং শক্তির বিধ্বংসী রূপ দেখাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় লক্ষ্য অনায়াসেই তাড়া করে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে এইডেন মার্করামের দল। কুইন্টন ডি ককের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ১৫ বল হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করল প্রোটিয়ারা।
ক্যারিয়ারের শততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন কুইন্টন ডি কক। বিশেষ এই ম্যাচটিকে তিনি রাঙালেন অবিশ্বাস্য এক সেঞ্চুরিতে। সতীর্থ দেভাল্দ ব্রেভিসের ব্যাট ধার করে খেলতে নেমে ১০টি ছক্কা ও ৬টি চারে মাত্র ৪৯ বলে ১১৫ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। ২১ বলে ফিফটি ছোঁয়া ডি কক তার এই ইনিংসে ডট বল দিয়েছেন মাত্র ৮টি। দ্বিতীয় উইকেটে রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে তার ৭২ বলে ১৬২ রানের বিধ্বংসী জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। রিকেলটন ৩৬ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
এই ইনিংসের পথে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ডি কক। প্রথম বাউন্ডারি হাঁকানোর মাধ্যমেই ফাফ ডু প্লেসির পর দ্বিতীয় প্রোটিয়া হিসেবে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এরপর ইনিংসের চতুর্থ ছক্কায় ডু প্লেসিকে (১২,১০৫ রান) টপকে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে যান ডি কক। ৪৩০ ম্যাচে এখন তার সংগ্রহ ১২,১১৩ রান।
মজার বিষয় হলো, ডি কক তার দুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিই পেয়েছেন এই সেঞ্চুরিয়ন মাঠে এবং দুবারই প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আরও আশ্চর্যের বিষয়, ২০২৩ সালে এই মাঠেই উইন্ডিজের ২৫৮ রান তাড়া করার সময় ৪৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি, আর কাল রাতের সেঞ্চুরিটিও এসেছে ঠিক ৪৩ বলে! সেঞ্চুরিয়নে ২২০+ রান তাড়া করে জেতার তালিকায় গত রাতের ম্যাচটি এখন দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২২১ রানের পাহাড় গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শিমরন হেটমায়ারের ৪২ বলে ৭৫, শেরফান রাদারফোর্ডের ২৪ বলে ৫৭ এবং ব্রান্ডন কিংয়ের ৪৯ রানের সুবাদে বড় পুঁজি পেলেও তা প্রোটিয়াদের থামাতে যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচ শেষে হতাশ উইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ বলেন,‘ব্যাটিং ভালো হয়েছে, কিন্তু সেঞ্চুরিয়নের কন্ডিশন বোলারদের জন্য খুবই কঠিন ছিল।’

