ইরানে সাম্প্রতিক ‘বিদেশি মদদপুষ্ট অস্থিরতার’ প্রেক্ষাপটে দেশটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। খবর প্রেস নিউজের।
আলোচনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের সাম্প্রতিক ও চলমান উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও তারা একমত হন।
উল্লেখ্য, ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূত্রপাত হয় মুদ্রার অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্র করে, যা ইরানের দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞার ফল। তবে গত ৮ জানুয়ারি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যখন সমন্বিত হামলায় দেশটির বিভিন্ন সরকারি, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দোকানপাট, ব্যাংক, বাস টার্মিনাল ও মসজিদে হামলা চালায়। এসব হামলায় একাধিক নিরাপত্তা সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন।
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রাপ্ত প্রমাণে দেখা গেছে—বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র বিতরণ করেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করেছে এবং এ কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা কামনার বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

