মানুষের শরীরে বার্ধক্য আসা ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরের বিভিন্ন কোষের কার্যকারিতা কমতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে শরীরের চামড়া কুঁচকে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজের গতিও কমে যায়। এবার তাইতো মানুষের শরীরে বার্ধক্য ঠেকানোর প্রোটিন খুঁজে বের করলেন বিজ্ঞানীরা।
এবার জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী মানুষের শরীরে থাকা এমন এক প্রোটিন আবিষ্কার করেছেন, যা শরীরে বার্ধক্য আসা ঠেকানোর পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন ক্ষতি মেরামত করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, এপি২এ১ নামের প্রোটিন শরীরের জৈবিক ঘড়িকে পেছন দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর ফলে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন ক্ষতি মেরামত করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর তাই এই প্রোটিনের মাধ্যমে মানুষের বার্ধক্য ঠেকানোর পাশাপাশি বয়স কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সাধারণভাবে মানবদেহের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষ পুরোনো হতে থাকে। বিজ্ঞানীরা এসব কোষকে সেনসেন্ট কোষ বলেন। এরা বিভাজন ও নিজেদের কাজ ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেয়। এসব কোষকে জম্বি কোষও বলা হয়। কোষগুলো ধ্বংস হয় না, বরং বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিভিন্ন প্রদাহজনক রাসায়নিক তৈরি করে বয়স-সম্পর্কিত রোগের বিকাশ ঘটনায়। তবে এপি২এ১ প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে কেবল সেনসেন্ট কোষকে তরুণ ও সুস্থ কোষে পরিণত করা সম্ভব। তাত্ত্বিকভাবে বিজ্ঞানীরা সেলুলার স্তরে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে বিপরীত করে আলঝেইমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো বয়স-সম্পর্কিত রোগের প্রতিকার করতে চান।
এ বিষয়ে ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী পিরাওয়ান চান্টাচোটিকুল জানিয়েছেন, আমরা এখনো জানি না বিভিন্ন সেনসেন্ট কোষ তাদের বিশাল আকার কীভাবে বজায় রাখতে পারে। এসব কোষ থেকে প্রোটিন সরিয়ে কোষকে সক্রিয় করার সুযোগ আছে। এই প্রোটিনের পরিমাণ হ্রাস করা হলে কোষ তাদের স্বাভাবিক আকারে ফিরে আসে, আবার বিভক্ত হতে শুরু করে ও তারুণ্যের লক্ষণ দেখায়।
সূত্র: ডেইলি মেইল