spot_img

আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার পাঁচ পুরস্কার

অবশ্যই পরুন

আত্মীয়-স্বজনের সাথে বন্ধন সুদৃঢ় করতে উত্সাহিত করে ইসলাম। ইসলাম আত্মীয় স্বজনের সাথে সদাচারের নির্দেশ দিয়েছে। এটি ইসলামের সামাজিক শিক্ষার একটি মৌলিক দিক। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আর তোমরা নিকটাত্মীয়, মিসকিন ও মুসাফিরদের হক আদায় কোরো এবং অপচয় কোরো না।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৬)

নবীজি (সা.) বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৩৬)

আত্মীয়তা রক্ষার পুরস্কার

কোরআন ও হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার একাধিক প্রতিদান ও সুফলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সুফল হলো:

১. রিজিক বৃদ্ধি : আত্মীয় স্বজনের সাথে আন্তরিক হূদ্যতা মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে। নবীজি (সা.) বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা করে তার ধন-সম্পদে সমৃদ্ধি আসুক এবং জীবনেরও দীর্ঘ হোক সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। ( সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৬)

২. আয়ু বৃদ্ধি : মহানবী (সা.) বলেন, যাকে আনন্দ দেয় তার রিজিকের সমৃদ্ধি এবং জীবনের দীর্ঘ আয়ু সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৩৯)

৩. দ্রুত সাওয়াব লাভ : আত্মীয় স্বজনের সাথে সদাচারের প্রতিদান দ্রুত লাভ করেন একজন মুমিন, দুনিয়ায় অথবা আখেরাতে। জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)-এর আশপাশে একবার আমরা জড় হয়ে আছি।  তিনি বললেন, হে মুসলমানরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আত্মীয় স্বজনের সাথে সদাচার করো। কেননা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার চেয়ে দ্রুত পুণ্য লাভ হয় এমন আমল নেই। (মাজমাউজ জাওয়িদ: ৫/১২৫)

৪. অপ্রীতিকর বিষয়াদি থেকে রক্ষা : এই উত্তম অভ্যাস রক্ষা করলে রোধ হয় অপমৃত্যু, দূর হয় বিপদ আপদ। নবী কারিম (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে আল্লাহ রিজিক বৃদ্ধি করেন, অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করেন এবং অপ্রীতিকর বিষয়াদির মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা করেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস : ৪৪০৪)

নবী (সা.) আরো ইরশাদ করেন, যাকে আনন্দ দেয় তার জীবনের আয়ু বৃদ্ধি হওয়া ও রিজিক প্রশস্ত হওয়া এবং তার থেকে অপমৃত্যু রোদ হওয়া সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখে। (মুস্তাদরাকে হাকেম : ৪/১৬০)

৫. পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরি : আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখলে পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরি হয়। নবীজি (সা.) বলেন, নিজ বংশ (আত্মীয়-স্বজনের) সম্পর্কে জ্ঞান রাখো যাতে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে পারো। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা নিকটজনদের ভালোবাসা তৈরি হওয়ার মাধ্যম। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৯)

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় দ্বিন ও দুনিয়া উভয় জাহানের সাফল্য রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তা রক্ষা করার তাওফিক দিন। আমিন।

সর্বশেষ সংবাদ

আইসিসির মুখোশ উন্মোচন করলো উইজডেন

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। অথচ গত গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ