চীনের বিরোধিতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-১৬ ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় চালান পেল তাইওয়ান রোববার সকালে তাইওয়ানের তাইতুংয়ের চিহহাং বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে তিনটি যুদ্ধবিমান।
চীনের বিরোধিতা ও তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-১৬ ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় চালান গ্রহণ করেছে তাইওয়ান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকালে তিনটি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের তাইতুংয়ের চিহহাং বিমানঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করে। দেশটির বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তাইপেভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেন্ট্রাল নিউজ।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় লকহিড মার্টিনের কারখানা থেকে বিমানগুলো যাত্রা শুরু করে।
এর আগে গত মাসে প্রথম চালানে দুটি এফ-১৬ ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান গ্রহণ করেছিল তাইওয়ান।
ফিনিক্স রাইজিং কর্মসূচি
ফিনিক্স রাইজিং কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন এবং তাইওয়ানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন যৌথভাবে ১৪০টি এফ-১৬এ/বি যুদ্ধবিমান আধুনিকায়ন করে এফ-১৬ভি ব্লক ২০ সংস্করণে উন্নীত করেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এসব বিমানের আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়।
তবে এই আধুনিকায়ন কর্মসূচির বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন ৬৬টি এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিও রয়েছে তাইওয়ানের।
২০১৯ সালে প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের এই চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। চুক্তিটি তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের ক্ষোভ
তাইওয়ান প্রথম দুটি এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে আবারও কঠোর বিরোধিতা জানায় চীন।
বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সরকার নিজেদের স্বশাসিত অবস্থান ও স্বাধীন পরিচয়ের ওপর জোর দিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন যুদ্ধবিমান পাওয়ার বিষয়টি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাইপে ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আনাদোলু

