spot_img

ট্রাম্প-পুতিন চুক্তির পরও অনাগ্রহী মার্কিনীরা, সাগরে ঘুরছে রুশ ডিজেলবাহী ৩ ট্যাংকার

অবশ্যই পরুন

রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সমঝোতা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রাশিয়া থেকে যাত্রা করা অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার মাঝপথে গন্তব্য পরিবর্তন করেছে। এতে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আইনি জটিলতার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা রাশিয়ার ডিজেল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

গত ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে।নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং এর পরপরই ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা ছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল বিক্রি, পরিবহন ও আমদানির সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এক লিটার ডিজেলও পৌঁছায়নি।

জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ও মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘তালিসমান’ ও সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ‘লেরু’ নামের দুটি ট্যাংকারের গন্তব্য পরিবর্তন হয়েছে। একটি ব্রাজিলের দিকে এবং অন্যটি ভূমধ্যসাগরের দিকে যাচ্ছে। উত্তর আটলান্টিকে থাকা তৃতীয় একটি ট্যাংকারও নিউইয়র্কের পরিবর্তে গন্তব্য হিসেবে ‘নির্দেশের অপেক্ষায়’ উল্লেখ করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কোর জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি সাময়িকভাবে রুশ ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রুশ জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ থাকায় প্রশাসনের এই ছাড় দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিলও রাজ্যের বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনাকারীদের রুশ জ্বালানিবাহী জাহাজ গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার সতর্কবার্তা, নিষিদ্ধ রুশ জ্বালানি বাণিজ্য থেকে মুনাফা করার চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের আইনি ঝুঁকি, ব্যাংকিং জটিলতা এবং ভবিষ্যতে কংগ্রেসের তদন্তের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা রুশ ডিজেল আমদানিতে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, এসব জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূলে রুশ ডিজেলবাহী জাহাজের পণ্য খালাসের সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, রাশিয়ার সব ডিজেলের ক্রেতা পাওয়া যাবে। পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও ট্যাংকারগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের খবরকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার প্রথম চালান যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেও দেশটির সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহে তা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না। সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ সংবাদ

৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন ৩ শতাধিক পরিবার

সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের একসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ছয় বছর...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ