সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত আঞ্চলিক জোট ‘মক্কা অ্যালায়েন্সে’ যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সিরিয়া। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি।
শনিবার (১ নভেম্বর) মানামা ডায়ালগ ২০২৬-এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাবিষয়ক এক অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা এ তথ্য জানিয়েছে।
আসাদ আল-শাইবানি বলেন, মক্কা জোটে, সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করতে বর্তমানে আলোচনা চলছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সিরিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা জোরদারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতি দামেস্কের সমর্থন রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষায়, এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ইয়েমেন পরিস্থিতিও উঠে আসে। দেশটির সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ইয়েমেনের সরকারের প্রতি সিরিয়ার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন আল-শাইবানি।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব পক্ষের সমর্থন থাকা প্রয়োজন। আঞ্চলিক সংকট নিরসনে রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, দুই বছরেরও কম সময়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে এক হাজারের বেশি হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন আল-শাইবানি। এসব হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুই বছরেরও কম সময়ে আমাদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের এক হাজারের বেশি হামলা হয়েছে। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিদিন সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও হামলার শিকার হওয়ার পরও কীভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রের একক কর্তৃত্বে অস্ত্র রাখার বিষয়ে আহ্বান জানানো যায়?
ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে আল-শাইবানি ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত বিচ্ছিন্নতা চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও স্পষ্ট করেন, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড। এ বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবকে প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর, বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর, সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যবর্তী ১৯৭৪ সালের চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠিত বাফার জোন দখলে নেয় ইসরায়েল। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরে সামরিক অবস্থান গড়ে তোলে দেশটি।
জাতিসংঘ, এর আগে, বাফার জোনে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তখন মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দামেস্কের এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

