spot_img

ব্যথা পিঠের নাকি কিডনির বুঝবেন কীভাবে, বিপদের আগেই লক্ষণ জানুন

অবশ্যই পরুন

কারও যখন পিঠ ব্যথা বা কোমর ব্যথা করে, শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করা হয়। ধরে নেয়া হয়, ঘুমানোর ভঙ্গির ভুলের কারণে বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হয়তো পিঠে ব্যথা হয়েছে। পরে ব্যথা কমলে আর এ নিয়ে ভাবা হয় না। কেউ কেউ আবার এ ধরনের ব্যথাকে পাত্তাই দেন না।

কারও কারও কোনো কাজ বা শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই পিঠ ব্যথা থাকে। তারাও শুরুতে গুরুত্ব দেন না ব্যথাকে। কিন্তু ব্যথা যখন তীব্র হয়, তখনই টনক নড়ে। অথচ আগে সতর্ক হলে অনেক জটিলতা সহজেই কাটিয়ে ওঠা যায়। কারণ, পিঠ ও কিডনির ব্যথার কিছু লক্ষণ একই ধরনের হয়ে থাকে। পিঠের ব্যথা পেশীর টান, ভুল অঙ্গবিন্যাস ও মেরুদণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু কিডনির ব্যথা এমন সংকেত হতে পারে, যা সেখানে কোনো সংক্রমণ, পাথর বা মূত্রনালীর সমস্যা বোঝাতে পারে।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শালিমার বাগের ফোর্টিস হাসপাতালের নেফ্রোলজির ডিরেক্টর ডা. যোগেশ ছাবরা পিঠ ও কিডনির ব্যথার ব্যাপারে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা কখনোই উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

পিঠ না কিডনির ব্যথা, সেটি শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যথার স্থান নির্ধারণ:
ডা. যোগেশের মতে, ব্যথাটি পিঠের না কিডনির তা বোঝার সহজ উপায় হচ্ছে ব্যথার স্থান পরীক্ষা করা। পিঠের ব্যথা অধিকাংশ সময়ই পিঠের নিচের অংশে, মেরুদণ্ড এবং এর পেশীর আশপাশে থাকে। ব্যথা নিতম্ব বা পায়ে ছড়াতে পারে, বিশেষ করে যদি ব্যথা ডিস্ক সরে যায় বা স্নায়ুর উদ্দীপনার কারণে হয়ে থাকে। আর কিডনির ব্যথা সাধারণত শরীরের গভীরে অনুভূত হয়। যা পাঁজরের নিচে ও মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত।

ব্যথার ধরনের ভিন্নতা:
এ চিকিৎসক বলেন, ব্যথার ধরন নিজেই তার উৎস সম্পর্কে ইঙ্গিত দিতে পারে। পিঠের ব্যথা ভোঁতা, শক্ত, তীক্ষ্ম ব্যথা হিসেবে প্রকাশ পায়। যা বাঁকানো, ভার উত্তোলন, মোচড়ানো বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষেত্রে তীব্র হয়ে থাকে। কখনো কখনো শুয়ে থাকলে বা চলাফেরা করলে ব্যথা কমতে পারে। কিডনির সমস্যার জন্য হওয়া ব্যথা প্রায়ই গভীর, তীক্ষ্ম বা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।

কিডনিতে পাথরের উপস্থিতির জন্য হওয়া ব্যথা সাধারণত তরঙ্গের মতো তীব্র অনুভূত হয়। এ ক্ষেত্রে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার কারণ হতে পারে। এরপরও কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা নিজ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে পারে না।

কিডনি ব্যথার লক্ষণসমূহ দেখা দিলে কলক্ষেপণ করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কিডনির সমস্যার ইঙ্গিতবাহী লক্ষণ:
ডা. যোগেশ বলেন, কিডনির ব্যথার ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ লক্ষণ থাকে। যেমন-

  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথা।
  • ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজনীয়তা।
  • প্রস্রাবে রক্ত।
  • প্রস্রাব ঘোলা এবং দুর্গন্ধযুক্ত দেখায়।
  • গরম লাগা এবং কাঁপুনি।
  • বমি বমি ভাব।
  • পিঠের নিচের অংশে বা পাশে ব্যথা।

তবে পেশীর টানের সঙ্গে সম্পর্কিত পিঠের ব্যথায় কোনো প্রস্রাবের লক্ষণ বা জ্বর থাকবে না।

নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন:
ডা. যোগেশ জানান, পিঠ বা পাশের ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, প্রস্রাবে রক্ত, বেদনাদায়ক প্রস্রাব বা ক্রমাগত বমি বমি ভাব থাকলে চিকিৎসার প্রয়োজন। এসব কিডনির সংক্রমণ বা কিডনিতে পাথর থাকার লক্ষণ হতে পারে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, তীব্র বা ক্রমশ ব্যথা খারাপ হতে থাকা, প্রস্রাব করতে না পারা, মূর্ছা যাওয়া, ডিহাইড্রেশনের লক্ষণের সঙ্গে বমি এবং পায়ের দুর্বলতা বা কুঁচকির অসাড়তার সঙ্গে পিঠ ব্যথা, একইসঙ্গে মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।

পিঠের ব্যথা ও কিডনির ব্যথা নির্ণয়:
ডা. যোগেশ জানিয়েছেন, নিজ থেকে রোগ নির্ণয় বা ব্যথানাশক কোনো ওষুধ সেবন করা যাবে না। কেননা, কিডনির সমস্যা থাকার সম্ভাবনা থাকলে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ কিডনির পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ওষুধ সেবন করতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা সানায়ে তাকাইচির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ