spot_img

আম্বানির তেল শোধনাগারে রুবিও, জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ

অবশ্যই পরুন

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে গত ২১ অক্টোবর ভারতের গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত রিলায়েন্সের বিশ্বের বৃহত্তম একক-স্থানের তেল শোধনাগার পরিদর্শন করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে জামনগর শোধনাগারটির। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই শোধনাগার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ইউক্রেন ও ভারতকে উৎসাহিত করে আসছেন। ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে ডিজেল উৎপাদনে ভারতের সক্ষমতার প্রশংসা করে দেশটিকে ‘পরিশোধন পরাশক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুবিও।

জ্বালানি সরবরাহে রিলায়েন্সকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র

রুবিও জানিয়েছেন, পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি পরিশোধন খাতে রিলায়েন্সের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় ওয়াশিংটন। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটির বিপুল পরিশোধন সক্ষমতা ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রিলায়েন্সের মতো বড় পরিশোধন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা

চলতি বছরের মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, রিলায়েন্সের বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণ করা হতে যাচ্ছে। তিনি প্রকল্পটিকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর জামনগর সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে এ-সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা।

ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চায় ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাও ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানো এবং রিলায়েন্সের বৃহৎ পরিশোধন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর এই সফর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের জ্বালানি বাণিজ্যে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা ও চুক্তির অগ্রগতির ওপর।

সর্বশেষ সংবাদ

ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মেলানিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী এবং দেশটির ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খেরসনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন।...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ