ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য শুধু যুদ্ধকে দায়ী করে লাভ নেই; বরং দেশটির জনগণ যে পরিবর্তন চাইছে, তা উপলব্ধি করা উচিত ম্যাক্রোঁর। বিক্ষোভকারীদেরই ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাক্রোঁর ভাষণের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে এসব মন্তব্য করেন আরাঘচি। ফ্রান্সজুড়ে সপ্তাহান্তে অস্থিরতার পর ওই ভাষণ দিয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
পোস্টে আরাঘচি আরও একটি বার্তার ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ম্যাক্রোঁ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ওই বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘ইরানের বিষয়ে আমরা বড় কিছু করতে পারি।’
এ প্রসঙ্গে আরাকচি বলেন, ম্যাক্রোঁ নিজেই নিজের বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইরানিদের ওপর চালানো নৃশংসতাকে স্বাগত জানানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যে যুদ্ধ তৈরিতে ম্যাক্রোঁর মতো ব্যক্তিরা সহায়তা করেছেন, এখন সেই যুদ্ধের ওপর দায় চাপাতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আরাকচি দাবি করেন, দেশটির জনগণ আমূল পরিবর্তন চায়। এর মধ্যে সমাবেশের স্বাধীনতাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ম্যাক্রোঁর প্রতি কটাক্ষ করে আরাঘচি বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্টের উচিত দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জনগণের বক্তব্য শোনা।
আরাকচির এসব মন্তব্যে ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে ম্যাক্রোঁর বক্তব্য, প্রকাশিত বার্তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং আরাকচির অভিযোগের বিষয়ে ফরাসি সরকারের প্রতিক্রিয়া স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আল জাজিরা

