spot_img

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যপথ স্থগিত করল পাকিস্তান

অবশ্যই পরুন

ইরানের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্য স্থগিত করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা ও চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে নেয়া এই পদক্ষেপে এলপিজিসহ বিভিন্ন পণ্যবোঝাই কয়েক শ যান সীমান্তের দুই পাশে আটকা পড়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি চললে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট বাড়তে পারে এবং খোলাবাজারে জ্বালানির দামও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, নিরাপত্তা ও চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত করা দুটি সীমান্তপথ হলো গাবদ-রিমদান (২৫০) ও তাফতান।

পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করলেও শনিবার (১৭ অক্টোবর) তা সামনে এসেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের হাতে আসা ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ৩ অক্টোবর জারি করা আগের আদেশটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা শহিদ রিন্দ বলেন, ‘পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করার উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মোকাবিলা করা, চোরাচালান ঠেকানো এবং সীমান্ত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে সীমান্ত বন্ধ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ‘গুজব’ নাকচ করেন রিন্দ। বেলুচিস্তানের এই কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের উভয় পাশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের উন্নয়নে এ পদক্ষেপ ‘জরুরি’ ছিল।

সীমান্ত-সংক্রান্ত প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে চলছে বলেও জানান রিন্দ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত শিগগিরই আবার খুলে দেয়া হতে পারে’। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও চোরাচালান ঠেকাতে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও বলেছেন, সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত সাময়িক। তবে তিনি এর কারণ হিসেবে ‘কারিগরি সমস্যার’ কথা উল্লেখ করেন। সমস্যার সমাধান করে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া আলাদাভাবে কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও (কিউসিসিআই) ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত সদস্য ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নতুন আমদানি ও রপ্তানি আদেশ দেয়া বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), চাল, তাজা ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যবোঝাই কয়েক শ পণ্যবাহী যান সীমান্তের উভয় পাশে আটকা পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ওয়ানা জানিয়েছে, রিমদান-গাবদ সীমান্তপথ দিয়ে যাত্রী চলাচল এখনো চালু রয়েছে। সংস্থাটি ইরানের ট্রানজিট কার্যালয়ের মহাপরিচালক সৈয়দ হোসেইন হোসেইনির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই সীমান্তপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পাকিস্তানের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গাবদ-রিমদান সীমান্তপথটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এ পথ দিয়ে প্রতিদিন চার হাজার টনের বেশি এলপিজি আমদানি করা হতো বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের পণ্য, বিশেষ করে চালের রপ্তানিও বেড়েছিল। এতে দেশটি লাখ লাখ ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছিল।

বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্ত বন্ধ থাকলে করাচিসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট আরও বাড়তে পারে।

দ্য ডন বলছে, বেলুচিস্তানে অস্থিরতার কারণে তাফতান সীমান্তপথেও আগে থেকেই সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এর মধ্যে গাবদ-রিমদান দিয়ে পণ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় খোলাবাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যেতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চেম্বার অব কমার্স সতর্ক করে বলেছে, এ বিঘ্নের ফলে শুধু জাতীয় কোষাগারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি এবং বহু মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে না, জ্বালানি সংকটও তৈরি হতে পারে।

মূলত চলতি বছরের মার্চ থেকে সীমান্ত বাণিজ্য সহজ করতে ইসলামাবাদ ও তেহরান একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শুল্কপ্রক্রিয়া সহজ করা, তাফতানকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুল্ক স্টেশন হিসেবে ঘোষণা এবং নতুন ট্রানজিট রুট চালু করা। এ সময়ে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অঞ্চলটির এবং এর বাইরের দেশগুলোর অর্থনীতিও চাপে পড়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধিদল। সোমবার (১৯ অক্টোবর)...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ